advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ক্রেতা ধরে রাখতে ‘নিজের’ পকেট কাটছেন ব্যবসায়ীরা

রেজাউল রেজা
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২৩:২০
advertisement

ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ ও আইন বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানী ও চট্টগ্রাম শহরের ১০০ দোকানে বসানো হয়েছে নতুন ইএফডি মেশিন। সহজ ব্যবহার এবং পণ্যের হিসাব সুরক্ষায় বেশ সুবিধা থাকায় সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে সব দোকানে এটি না বসানোর কারণে ইএফডি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় পিছিয়ে পড়ছে বলে দাবি অনেকের।

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে ইএফডি মেশিনের বরাদ্দ পেয়েছে। এদের অধিকাংশই বলছেন- ইএফডি মেশিনে পণ্য বিক্রির ইনভয়েস দেওয়ায় পণ্যের দাম বেশি আসছে। অপরদিকে যেসব দোকানে মেশিন নেই সেখানে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম। তাই সেখান থেকেই পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। এতে ইএফডি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

গেজেট শপ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী মো. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘ইএফডি নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। মেশিনটি আধুনিক ও অনেক সুবিধাও রয়েছে। যেমন- ইসিআরের (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার) তুলনায় এ মেশিন অনেক ছোট ও সহজে বহন করা যায়। এতে পণ্যের হিসাব রাখাটাও সহজ হয়েছে। রসিদ বই এখন আর ছাপাতে হয় না। মেশিন থেকে যে রশিদ বের হয় সেটাতেই কাজ চলে যায়।’ হাসিবুর বলেন, ‘যদি মার্কেটের সবাইকে ইএফডির আওতায় আনা হতো তা হলে কোনো সমস্যা ছিল না। সবার কাছে মেশিনটি না থাকায় বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো ব্যবহারকারীরা। কেননা ইএফডিতে পণ্য বিক্রিতে

ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট নিচ্ছি আমরা। অথচ যেসব দোকানে এ মেশিন নেই তারা ৫ শতাংশ কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। যেমন- একটি হেডফোনের দাম যদি হয় ৫০০ টাকা তা হলে ইএফডিতে ইনভয়েস দেওয়ার পর ভ্যাটসহ সেটার দাম পড়ছে ৫২৫ টাকা। এ দাম শুনে ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন। কারণ আমার পাশের দোকানগুলোতে এ পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমরাও ৫০০ টাকাতে পণ্যটি বিক্রি করছি এবং বাড়তি ২৫ টাকা নিজেদের পকেট থেকেই দিতে হচ্ছে।’

ভ্যাট আদায়ে অনিয়ম বন্ধে গত ২৫ আগস্ট ইএফডি মেশিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। প্রাথমিকভাবে ১০০ ইএফডি মেশিন বিতরণ করা হয় বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীদের মাঝে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ ডিভাইসের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির ইনভয়েস দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ইএফডির বিশেষত্ব হলো, বিক্রির তথ্য মেশিনটিতে সংরক্ষণ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরে রক্ষিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে (ইএফডিএমএস) সংযুক্ত হবে। ফলে বিক্রীত পণ্যের ভ্যাট সম্পর্কে জানতে পারবে এনবিআর।

উদ্বোধনকালে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভ্যাটের অনিয়ম বন্ধ করতেই ইএফডি চালু হচ্ছে। এ ব্যবস্থা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আহরণে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। কথিত হয়রানি দূর হবে এবং রাজস্ব আহরণের ব্যয় ও ব্যবসায়িক খরচ কমবে। কর পরিহারের সুযোগ থাকবে না। রাজস্ব আদায়ে গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অটোমেশনের আওতায় আসবে।’

বসুন্ধরা মার্কেটের দি ক্যামেরা হাউস প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী মায়নুল হুদা বলেন, ‘ক্রেতাদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না। তাদের বোঝানোটাও কষ্টকর। তারা ভাবেন যে আমরা বেশি লাভের জন্য বেশি দাম রাখছি। এতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কিছু দোকানে মেশিন আছে, কিছু দোকানে নেই। এতে ব্যবসায় বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। মেশিন চালু করলে সব দোকানেই করা উচিত।’ বসুন্ধরার আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বড় ব্র্যান্ডগুলোর আউটলেটে ইএফডি বরাদ্দ দিলে ভালো হতো। কারণ সেগুলো ফিক্সড প্রাইসের দোকান। কিন্তু ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক প্রতিযোগী রয়েছে, পণ্য বিক্রিতে দামাদামিরও সুযোগ রয়েছে। এখানে পণ্যের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা অন্য দোকানে চলে যান।’

এদিকে ভ্যাটের নতুন প্রযুক্তি এলেও ভ্যাট জমা ও রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আধুনিক হয়নি বলে আক্ষেপ জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন ভ্যাট মেশিন আধুনিক হলেও ভ্যাট জমা ও রিটার্ন দাখিল করতে হচ্ছে আগের সেই পুরনো নিয়মেই। এতে অনেক সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ‘জার্মান ইলেক্ট্রনিক’ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী মো. আতিক বলেন, ‘ইএফডি মেশিনে আমরা খুশি, কিন্তু ভ্যাট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আধুনিক হচ্ছে না। এখনো সেই সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়াতে হয় টাকা জমা দিতে। অন্য ব্যাংক কিংবা বিকল্প কোনো মাধ্যমে জমা দেওয়ারও সুযোগ নেই। আবার রিটার্ন দাখিলের জন্য ভ্যাট অফিসে আরেকদিন দৌড়াতে হচ্ছে। এতে আমাদের দুদিন সময় নষ্ট হয়। অথচ ব্যবসায় দুই মিনিটও অনেক মূল্যবান, সেখানে দুই দিন ভ্যাট জমার পেছনে ব্যয় করাটা কষ্টকর। দেশের সবকিছু যেখানে ডিজিটাল হয়ে গেছে, সেখানে ভ্যাট জমার প্রক্রিয়াটাও ডিজিটাল হলে ভালো হতো। এ জন্য কোনো অনলাইন পোর্টাল থাকালেও সুবিধা হয়। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন মাধ্যমকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। ভ্যাট জমা দেওয়ার জন্য আধুনিক কোনো ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীদের অনেক সময় বেঁচে যেত এবং দুর্ভোগও কমে যেত।’

advertisement
Evaly
advertisement