advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে প্রতীক পেয়ে জাহাঙ্গীরের গণসংযোগ, বিক্ষুব্ধদের কালো পতাকা মিছিল

২৩ অক্টোবর ২০২০ ২১:৩৩
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২০ ২১:৫১
এস এম জাহাঙ্গীরের গণজমায়েত।ছবি : আমাদের সময়
advertisement

উপস্থিত সবাই ভোটার কিনা তা বোঝা না গেলেও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘বিশাল জমায়েত’ ঘটিয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর। তার পাশে ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানও। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে উত্তরা ৭ সেক্টরের ১ নং সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর।

এরপর বিশাল এই মিছিল নিয়ে উত্তরার রবীন্দ্র সরণি রোড দিয়ে সামনে এগুতেই জাহাঙ্গীরকে কালো পতাকা দেখান দলের নেতাকর্মীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ। জাহাঙ্গীরের মিছিল চলে যাওয়ার পর পেছন থেকে কালো পতাকা হাতে একদল নেতাকর্মী ‘ধর’, ‘ধর’ বলে স্লোগান দেয়।  সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দিলেও জাহাঙ্গীরের প্রচারে বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি।

প্রচার প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নেমে এভাবেই নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে কালো পতাকা দেখলেন ধানের শীষের এ প্রার্থী।  আজ শুক্রবার রাতে এস এম জাহাঙ্গীর দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘কালো পতাকা হাতে কোনো মানুষই তো দেখলাম না। আমি শুধু দেখতে পেয়েছি ধানের শীষের গণজোয়ার।’

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতকারের দিনে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কফিলউদ্দিন ও উত্তরের যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। ওই ঘটনায় কাউকেই শাস্তি না দিয়ে জাহাঙ্গীরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিবাদে গুলশানে আহত নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মহাসচিবের বাসায় ডিম নিক্ষেপ করে।

ওই ঘটনায় স্থানীয় ১৭ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। গুলশানে আহত ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতারা ঘোষণা দেন, যেখানে জাহাঙ্গীর সেখানেই তারা কালো পতাকা দেখাবে। আজ শুক্রবার জাহাঙ্গীর যখন উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১ নং সড়কে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দেন তখন ক্ষুব্ধ অংশের নেতাকর্মীরা তাদের ঘোষণা অনুযায়ী কালোপতাকা হাতে আজমপুরের কাছে অবস্থান নেয় এবং জাহাঙ্গীর বিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় ক্ষুব্ধ এসব নেতাকর্মীরা জানান, তারা গুলশানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের দিনে সংঘর্ষের ঘটনার বিচার চেয়েছেন। তাদের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু উল্টো অন্য ঘটনায় তারা বহিষ্কার হয়েছেন। তাই জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারের দাবিতে এমন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

কালো পতাকা হাতে নেতৃত্ব দেওয়া বহিষ্কৃত নেতা মতিউর রহমান মতির দাবি, জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার দাবি করে আমরা প্রার্থীর মিছিলের শেষভাগে কালো পতাকা প্রদর্শন করে এগিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। অবশ্য বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের দাবি, বিক্ষুব্ধরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইন্ধনে বিচ্ছৃঙ্খলা সৃষ্টির করার চেষ্টা করছে।

আনুষ্ঠানিক প্রচারের শুরুতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু হলো। আমাদের এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে ছিল, আছে। ১২ নভেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো। এ আসন থেকে খালেদা জিয়ার বিজয় শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলে রায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিজয়ী করবে। আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করবো।’

গণসংযোগে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আরও ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা- আব্দুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ, মীর সরাফত আলী সপু, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

 

advertisement
Evaly
advertisement