advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঠান্ডা-গরমে শিশুর ঠান্ডাজনিত সমস্যা

ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার
২৪ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৫
advertisement

ঠা-া-গরমে শিশুর লেগে যেতে পারে ঠা-া। সাধারণ সর্দি-কাশি ও ভাইরাল জ্বর বা ফ্লুয়ের বেশি প্রকোপ দেখা দেয় অক্টোম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর বছরে বারবার হালকা ঠা-া সর্দি-কাশি হওয়া জটিল কোনো রোগ নয়। অর্থাৎ হতেই পারে। এর বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত সমস্যা। তেমন কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে এ সময় শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাটিস. অ্যালার্জিজনিত হাঁপানির প্রকোপও বেড়ে যায়। এ জন্য বাড়তি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সর্দি-কাশি হলে ঘাবড়াবেন না : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাইনো ভাইরাস সংক্রমণ এর জন্য দায়ী। অনেক সময় ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের কারণেও রোগটি দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত হলেও এতে নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, খুকখুক কাশি, ঘড়ঘড় শব্দ ও সঙ্গে জ্বর, গা ম্যাজম্যাজ ভাব, এমনকি গলা বা কান ব্যথা- যে কোনো উপসর্গই হতে পারে। কারও কারও এর সঙ্গে বমি ও নরম মলও হয়।

সমস্যা হলে যা করবেন : নাক বন্ধ বা নাকে সর্দির জন্য নরমাল স্যালাইন ড্রপ বা বাড়িতে তৈরি স্যালাইন পানি দিয়ে একটু পর পর নাক পরিষ্কার করে দিন। শিশুকে পাশ ফিরিয়ে নাকে পানি গড়িয়ে পড়তে দিন ও টিস্যু দিয়ে মুছে দিন। প্রচলিত কফ সিরাপ বা অন্য কোনো ওষুধ না দেওয়াই ভালো। শিশুর বয়স ছয় মাসের নিচে হলে কেবল মায়ের বুকের দুধই বারবার দিন। ছয় মাসের ওপর বয়সীদের কাশি থাকলে কুসুম গরম পানিতে মধু, আদার রস বা তুলসীপাতার রস, লেবু দিয়ে গরম পানি বা চা ইত্যাদি দিতে পারেন। এগুলো কফ তরল করতে সাহায্য করবে। সর্দি-কাশি বা অরুচির জন্য শিশু একসঙ্গে বেশি খেতে পারে না। তাই বারবার খাবার দিন। পানিশূন্যতা রোধে তরল খাবার বেশি দিন। ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, যেমন- লেবু, কমলা, মালটা, আমলকী ইত্যাদি উপকারী।

যখন সমস্যা গুরুতর : সাধারণ যত্ন ও পুষ্টি বজায় রাখলে এ সমস্যা ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যাওয়ার কথা। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি জটিলও হয়ে যেতে পারে।

লক্ষ্য রাখুন কয়েকটি বিষয় : যদি শিশু ঘন ঘন শ্বাস নিতে থাকে, নিঃশ্বাসের সঙ্গে পাঁজর ভেতর দিকে দেবে যায়, শিশু খাওয়া বন্ধ করে দেয় ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, খিঁচুনি হয় বা জ্বর অনেক বেড়ে যায় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন অথবা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, শিশু হৃদরোগ বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলানগর, ঢাকা

advertisement
Evaly
advertisement