advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজশাহীতে বন্যায় ক্ষতি ১৪০ কোটি টাকা

আমজাদ হোসেন শিমুল রাজশাহী
২৪ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২০ ২২:১৩
advertisement

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িগুলো এখনো বসবাসের অনুপযোগী। পানি নামলেও ঘরে ফিরতে পারছেন না লোকজন। হাজার হাজার গৃহহীন পরিবার দিনপাত করছেন খোলা আকাশের নিচেই। শুধু তা-ই নয়; এবারের বন্যায় রাজশাহীর কৃষি ও মৎস্য খাতেও বেশ ক্ষতি হয়েছে, টাকার অঙ্কে প্রায় ১৪০ কোটি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩২ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার টাকা। আর পুকুর ও বিল ডুবে চাষের মাছ ভেসে গেছে প্রায় ১০৭ কোটি টাকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় বাগমারা উপজেলার সব নদী-নালা ও খাল-বিল। সেই সঙ্গে মান্দায় টেংরা নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ফুঁসে ওঠে বারনই ও ফকিন্নী নদীর পানি। একের পর এক ভাঙতে শুরু করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এক রাতের মধ্যেই তলিয়ে যায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কয়েকটি এলাকা এবং সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী ও ঝিকরাসহ ১১টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম। ঘরের জানালা পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ায় গৃহ ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে প্রায় ২০ হাজার

পরিবার। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এটি শেষ হলেই বরাদ্দ পাওয়ার ভিত্তিতে গৃহহীন পরিবারের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা ও আউশ ধান, ৩ হাজার ২০ হেক্টরে রোপা ও আমন ধান এবং ১ হাজার ১৩৯ হেক্টরে সবজি চাষ হয়। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ছিল পানের বরজ। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত বন্যায় সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী, ঝিকরা, মাড়িয়া, হামিরকুৎসা ও গোয়ালকান্দিসহ ১১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ২১০ হেক্টর জমির রোপা ও আউশ, ৫০০ হেক্টরের রোপা ও আমন ধান এবং ৩৫ হেক্টর জমির পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে যায়।

গোবিন্দপাড়ার কৃষক সালামতউল্লাহ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আউশ ও আমন ধান চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে আমার সব ধান তলিয়ে গেছে।’ ঝিকরার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে আমার আট বিঘা জমির রোপা, আমন ও আউশ ধান সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন জানি না সেই ক্ষতি কেমনে পোষাব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, দুদফা বন্যায় বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় ৩ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩২ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার টাকার। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আকস্মিক বন্যায় সোনাডাঙ্গা, দ্বীপপুর, কাচারী কোয়ালীপাড়া, বড়বিহানালী, ঝিকরা ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ৪০টি পুকুর ভেসে গেছে। নেট দিয়ে ঘিরে মাছ আটকানোর চেষ্টা করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। চাষের সব মাছই ভেসে গেছে সেই বানের পানিতে। এ ছাড়া মাছ চাষ করা কয়েকটি বিল ডুবেও বেশ ক্ষতি হয়েছে মৎস্যচাষিদের। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, হঠাৎ বন্যা হওয়ায় মৎস্যচাষিরা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেননি। এ কারণে চাষের মাছ ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় ১০৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement