advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এমপির পিএসের দখলে কোটি টাকার জমি

ইউসুফ সোহেল
২৪ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০ ০১:৫১
এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ‘পিএস’ পরিচয় দেওয়া সুপ্রভাত চক্রবর্তী বাবু। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রাজধানীর পল্লবীর কালশী মোড়ে সাবেক এক কাউন্সিলরের কোটি টাকা মূল্যের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা-১৬ আসনের এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ‘পিএস’ পরিচয় দেওয়া সুপ্রভাত চক্রবর্তী বাবুর বিরুদ্ধে। তিনি পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদকও।

এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার ও মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের দপ্তরে বাবু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মিরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার (কাউন্সিলর) ছিলেন।

পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনে অবস্থিত মসজিদ-ই বাইতুল ফালাহ মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ভুক্তভোগী আবদুল মালেক গতকাল আমাদের সময়কে জানান, পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশন, ই-ব্লকের এভি.-১-এর ৯২/১ ও লেন ১-এর ৯২/২ নম্বর প্লটের মালিক তিনি। সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রাতের আঁধারে জমিটি দখল করেন এমপি ইলিয়াস মোল্লার ‘পিএস’ সুপ্রভাত চক্রবর্তী বাবু। চক্রটি শুধু দখলই করেনি, ওই প্লটে একাধিক দোকান নির্মাণ করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এখন নিজ সম্পত্তিতে গেলে আবদুল মালেককে হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা। কখন কী হয় এ আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিরূপায় হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন আবদুল মালেক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

আবদুল মালেকের অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশন, ই-ব্লকের ওই প্লটে গিয়ে দেখা যায়- জমির সম্মুখভাগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘হাবিব গ্লাস হাউস’ ও ‘ফাতেমা ট্রেডিং করপোরেশন’ নামে বিশাল আয়তনের দুটি দোকান। দোকানগুলোর মালিক কে জানতে চাইলে ‘ফাতেমা ট্রেডিং করপোরেশন’-এর ম্যানেজার লিটন জানান- এমপির (ইলিয়াস মোল্লা) পিএস বাবু ভাই। মাসিক ভাড়া বাবুর হাতেই তুলে দেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা-১৬ আসনের সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আমার পিএস বা এপিএস হিসেবে সুপ্রভাত চক্রবর্তী বাবু নামে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদি কেউ আমার পিএস পরিচয়ে কোনো অপরাধে জড়িত থাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কালশী মোড়ে কার জমি কে দখল করেছে বিষয়টি আমি অবগত নই। এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে থাকে, অভিযোগের সত্যতা পেলে সে যেই-ই হোক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতা সুপ্রভাত চক্রবর্তী বাবু আমাদের সময়কে বলেন, আমি কোনো অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত নই। দখলের তো প্রশ্নই ওঠে না। যে জমিটি নিয়ে কথা উঠেছে সেটি আমার কেনা সম্পত্তি। যার দলিল প্রক্রিয়াধীন। একটি মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement