advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুগ্ধ খামারিদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে রূপালী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২০ ২২:১৩
advertisement

দুগ্ধজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ এবং যুবক ও যুব-মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিল্কভিটা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন এমপি এবং মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর উপস্থিতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদউল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বৃহস্পতিবার রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুগ্ধ খামারিদের মাঝে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে রূপালী ব্যাংক। অনুষ্ঠানে মিল্কভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়াদুধ

প্রস্তুত করেছে মিল্কভিটা। এসব গুঁড়াদুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও বেঁচে গেছে।

শেখ নাদির বলেন, সমবায় ছাড়া এই বিশাল জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষের জন্য। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। কখনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়নি।

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন এমপি বলেন, অতীতে অনেক সমবায় প্রকল্প এসেছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করা মিল্কভিটাও পঁচাত্তরপরবর্তী সরকারগুলোর সময় অবহেলিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মিল্কভিটার মাধ্যমে দুগ্ধ খাতের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। দেশের দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে রূপালী ব্যাংক সব সময় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে বলে জানান চেয়ারম্যান।

ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছেত খান বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। দুধ ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আর কখনো যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য রূপালী ব্যাংক সব সময় কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদউল্লাহ আল মাসুদ বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ ব্যবস্থাপনার ফলে দেশে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়নি। না খেয়ে একজন মানুষও মারা যায়নি।

রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে আদা চাষে রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আদাতে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য আমাদের এই কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিল্কভিটার ঢাকা দুগ্ধ কারখানা, বাঘাবাড়ী দুগ্ধ কারখানা ও টেকেরহাট দুগ্ধ কারখানার তালিকাভুক্ত সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে ১ হাজার সদস্যকে ১০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে রূপালী ব্যাংক। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে প্রতি সদস্যকে ১ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণের কর্পোরেট গ্যারান্টার মিল্কভিটা। মিল্কভিটা খামারিদের কাছ থেকে কিস্তির অর্থ সংগ্রহ করে ব্যাংকে জমা দেবে।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন পরিচালক অরিজিৎ চৌধুরী। রূপালী ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জিএম অশোক কুমার সিংহ রায়, মো. শফিকুল ইসলাম, গোলাম মর্তুজাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগের জিএম মো. মজিবর রহমান।

advertisement
Evaly
advertisement