advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আকবর লাপাত্তা মুখ খুলছে না অন্যরা

সজল ছত্রী ও নুরুল হক শিপু,সিলেট
২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ০৯:১১
advertisement

সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়া এসআই আকবরের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও একাধিক সূত্রমতে আকবর আবারও দেশে ফিরেছেন।

আকবর গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক খুনের ঘটনায় বাড়ছে ধূম্রজাল। মুখ খুলতে চাইছে না অন্যান্য অপরাধীরা। তৈরি হচ্ছে জটিলতা। ঘটনার রাতে পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শী তিন কনস্টেবল আদালতের কাছে ঘটনার সবিস্তার বিবরণ দিয়েছেন। তাতে এসআই আকবর, এএসআই আশেক এলাহি, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশীদ সরাসরি নির্যাতনে জড়িত বলে তারা সাক্ষ্য দিলেও গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে থাকা কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস নিজের দায় অস্বীকার করে পুরো দায় চাপিয়েছেন এসআই আকবর ও কনস্টেবল হারুনুর রশীদের ওপর। আজ রবিবার টিটুচন্দ্র দাসের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে। সেখানে তিনি আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন কিনা তাও নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে শনিবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম। বিচারক শারমিন খানম নীলা শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকবরের অবস্থান জানতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারও কাজে আসছে না। আবার টানা চার দিন কনস্টেবল টিটুচন্দ্রকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তার কাছ থেকে সঠিক তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। টিটু দায় এড়াতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। পলাতক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ও কনস্টেবল হারুনুর রশীদের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন তিনি। তাকে আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করতে পারে পিবিআই। নতুন করে রিমান্ডে নেওয়া হারুনুর রশীদের সঙ্গে তার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রিমান্ডে হারুনুর রশীদ কী তথ্য দেন তার ওপর নির্ভর করছে তদন্তের অনেক কিছু।

ঘটনার রাতে ফাঁড়িতে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল শামীম আদালতকে জানান, ১০ অক্টোবর রাত ২টার দিকে ফাঁড়ির মুন্সির কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। রাত ৩টার পর কান্নার আওয়াজে তার ঘুম ভাঙে। উঠে গিয়ে দেখতে পান রায়হানের দুই হাত পেছনের দিকে হাতকড়া লাগানো। মেঝেতে বসে চিৎকার করছেন তিনি। আদালতে প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন ওইদিন দায়িত্বরত কনস্টেবল দেলোয়ার ও সাইদুর। তারা জানান, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস মোটা লাঠি দিয়ে রায়হানকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এক পর্যায়ে রায়হান ডান দিকে কাত হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লে টিটু তার পায়ের তলায় আঘাত করেন। তখন কনস্টেবল হারুনুর রশীদ কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনিও রায়হানকে মারতে শুরু করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী ও কুতুব উদ্দিনও সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন কনস্টেবল তৌহিদ ও সজিব। এর কিছুক্ষণ পর কক্ষে প্রবেশ করেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন। তিনি টিটুর হাতের লাঠি নিয়ে রায়হানকে তার নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করেই বেধড়ক পেটাতে থাকেন। মারমুখী আচরণ দেখে আকবরকে মারতে বারণ করেন এএসআই কুতুব।

সাইদুর ও দেলওয়ার আদালতকে আরও জানান, ফাঁড়ির মুন্সি কনস্টেবল আমিনুলের কক্ষে রায়হানের পা উঁচু করে ধরে রাখেন কনস্টেবল হারুন। আর এসআই আকবর ও কনস্টেবল টিটু তার পায়ের পাতা এবং পায়ে আঘাত করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী ফাঁড়ির ইনচার্জ আসআই আকবরকে বলেন, রায়হান পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে তার পায়ে মারেন। পায়ে মারলে সমস্যা নেই। পরে ঘটনার রাতে সেন্ট্রি পোস্টে দায়িত্বরত কনস্টেবল তৌহিদের মোবাইল থেকে রায়হানকে দিয়ে তার বাড়িতে কল করিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলেন আকবর। সকালে রায়হানের অবস্থা মুমূর্ষু হলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করা ওই যুবক।

 

advertisement
Evaly
advertisement