advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চাটখিল-সাভারে শিশু ও গাজীপুরে তরুণী ধর্ষিত

কালীগঞ্জে গণধর্ষণের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, তাড়াশে স্কুলছাত্রীর মামলা, বড়াইগ্রামে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৬
advertisement

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মিরাজ হোসেন নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক শিশুকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাভারে শিশুকে ধর্ষণকারী কামাল হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুরে বিয়ে না হওয়া তরুণীর বাণ ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করেছে এক ভুয়া কবিরাজ। কালীগঞ্জে গণধর্ষণের প্রধান আসামি ও বড়াইগ্রামে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাড়াশে স্কুলছাত্রী মামলা করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহপুর ইউনিয়নে মিরাজ হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক শিশুকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মিরাজকে আসামি করে মামলা করেছেন। শনিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। অভিযুক্ত মিরাজ হোসেন পূর্ব করটখিল গ্রামের আমিন উল্যা মুন্সীবাড়ির মনির হোসেনের ছেলে।

গত ২১ অক্টোবর বুধবার মামলার বাদী পারিবারিক কাজে বাড়ির বাইরে যান। এ সময় তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকন্যা (৯) ঘরে একা ছিল। এ সুযোগে একই গ্রামের বখাটে মিরাজ ঘরে প্রবেশ করে। একা পেয়ে শিশুটিকে পাশের সুপারিবাগানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। বিকালে মামলার বাদী বাড়িতে ফিরে তার মেয়েকে কান্নারত অবস্থায় দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে মিরাজের বিষয়টি তাকে জানায়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাভারে এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণকারী কামাল হোসেনকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ধর্ষণের শিকার ওই শিশু তার বাবা-মার সঙ্গে সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে। গতকাল ওই শিশুর বাবা-মা পোশাক কারখানায় কাজে গেলে যুবক কামাল হোসেন শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের বিষয়টি বাবা-মাকে জানালে রাতেই সাভার মডেল থানায় কামাল হোসেনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। ধর্ষণকারী যুবককে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ধর্ষণকারীকে আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকায় বিয়ে না হওয়া তরুণীর বাণ ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে পানি পড়া দিয়ে এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে কবিরাজ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভিকটিম শ্রীপুর থানায় বাদী হয়ে ওই কবিরাজকে আসামি করে মামলা করেছেন।

থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করেন। প্রায় আড়াই মাস আগে নয়নপুর এলাকার মো. নজরুল ইসলামের বাড়ি ভাড়ায় ওঠেন। একই বাড়িতে আবুল হাশেমও পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। সেই সুবাদে তাদের পরিচয়। আবুল হাশেম নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দেন। গত ২০ অক্টোবর সকালে কথা আছে বলে ভিকটিমকে আবুল হাশেমের ঘরে ডেকে নেন। পরে বলেন কে বা কারা ভিকটিমকে বাণ মেরেছে। তাই তার বিয়ের কোনো প্রস্তাব আসে না। এজন্য একটি গ্লাসে পানি নিয়ে এসে তিনি ভিকটিমকে পান করতে বলেন। পরে ভিকটিম সরল বিশ্বাসে পান করে নিজ কক্ষে চলে যান। প্রায় ৫-৬ মিনিট পরে আবুল হাশেম ভিকটিমকে পাশের খালি রুমে নিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দরজা আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে আবুল হাশেম ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিকটিমকে খুন করার হুমকি দেন। এ সময় ভিকটিমের ফুফু ওই বাসায় গেলে আবুল হাশেম চলে যান। বিষয়টি স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়েরে দেরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভিকটিম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। আবুল হাশেম মামলার পর থেকে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হওয়ার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কলেজছাত্র গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে শুক্রবার বিকালে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ডিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তাড়াশ থানার ওসি ফজলে আশিক নিশ্চিত করেছেন।

তাড়াশ থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের দীঘুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ও রাজশাহী সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ সোয়েব ইসলাম শাকিব (২২) দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৯ অক্টোবর মেয়েটি পার্শ্ববর্তী পাড়ায় বেড়াতে যাওয়ার পথে জোর করে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে জানালে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। ২২ অক্টোবর ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

তাড়াশ থানার ওসি ফজলে আশিক বলেন, মামলার পর পরই আসামি গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চালানো হচ্ছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় ট্রেন মিস করা সেই কিশোরী (১৫) গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি নুরু মিয়াকে (৪০) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার নুরু মিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভা-ার ইউনিয়নের তালুক বানিনগর এলাকার মজিবর রহমান মজির ছেলে।

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারকে ধাওয়া করে আটক করেছে জনতা। শনিবার দুপুরে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের কালিকাপুর এলাকার একটি বিল থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক ওই মাদ্রাসা সুপারের নাম মাওলানা মুফতি ইসমাইল হোসেন (৩৪)। সে কালিকাপুর উম্মাহাতুন মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসার সুপার ও পার্শ্ববর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-চাপিলা শাহিবাজার এলাকার আবদুুল লতিফ প্রামাণিকের ছেলে।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সূত্র ধরে ওই মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। অধ্যয়নরত ছাত্রীদের লেখাপড়া চলমান রাখার জন্য মাদ্রাসা সুপার অভিভাবকদের তাগিদ দিলে বনপাড়া মালিপাড়া এলাকার আবির হোসেন তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শ্যালিকা সামিয়া আক্তার তানিসাকে ওই মাদ্রাসা সুপার ইসমাইল হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়তে বলে। এতে তানিসা আপত্তি জানিয়ে বলে, ‘ওই সুপারের কাছে প্রাইভেট পড়ব না। কারণ ওই সুপার আমার বান্ধবীকে ক্লাসরুমে আটকে খারাপ কাজ করেছে।’ এ কথা শুনে ওই অভিভাবক তানিসাকে সঙ্গে নিয়ে একই এলাকার ওই বান্ধবীর কাছে যান এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে শ্রেণিকক্ষে তাকে ওই সুপার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে মর্মে ঘটনা খুলে বলে। পরে শনিবার সকাল ৯টার দিকে ওই অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন সুপার ইসমাইল হোসেনের কাছে ঘটনা জানতে গেলে সুপার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় জনতা তাকে ধাওয়া করে আটক করে।

বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসা সুপার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে আটক করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নোয়াখালী প্রতিনিধি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, সাভার প্রতিনিধি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, শ্রীপুর প্রতিনিধি, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি।

advertisement
Evaly
advertisement