advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

৫৩ রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প : আত্রাই নদীর ভারতীয় অংশ খননের প্রস্তাব : শুধু বাংলাদেশ অংশে ড্রেজিংয়ে সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয়

তাওহীদুল ইসলাম
২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৬
advertisement

আত্রাই নদীর প্রায় ৪২ কিলোমিটার অংশ ভারত হয়ে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটির ভারতীয় অংশে ড্রেজিং করা না হলে বাংলাদেশ অংশের ড্রেজিংয়ের সুফল পাওয়া যাবে না। তাই নদীটির ভারতীয় অংশে ড্রেজিং করার জন্য দেশটিকে চিঠি দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে দেশটির অর্থায়নে ভারতীয় অংশের নদী ড্রেজিংয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ নদীর ভারতীয় অংশে ড্রেজিং করা না হলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অংশে ড্রেজিংয়ের সুফল পাওয়া যাবে না- এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক আমাদের সময়কে বলেন, ভারতকে আত্রাই নদীর তাদের অংশে ড্রেজিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভারতীয় অংশ দিয়ে যাতে বাংলাদেশের ড্রেজার যাতায়াত করতে পারে, সেই অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। আত্রাই নদী ড্রেজিং হলে তা দুই দেশের জন্য লাভজনক হবে। চিঠির জবাবের অপেক্ষায় আছি আমরা।

সূত্র জানিয়েছে, বিআইডব্লি­উটিএর ‘অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (প্রথম পর্যায় : ২৪টি নৌপথ) প্রকল্পের’ আওতায় আত্রাই নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে। ১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নদীগুলোয় এ পর্যন্ত ৬৯৮ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ৮শ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ২৪টি নৌরুটের মধ্যে ৯টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫টি নৌরুটে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। এই ১৫টি রুটের একটি হচ্ছে আত্রাই নদী। এ নদীর ৪২ কিলোমিটার অংশ ভারতে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় অংশের নৌপথ দিয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার অংশে ড্রেজার প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ড্রেজারের ভারী যন্ত্রপাতি খুলে সড়কপথে গাড়িতে করে ড্রেজিং স্পটে নিয়ে আবার সংযোজন করতে হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ১৪ ইঞ্চি ডায়ামিটার ও ১৬ ইঞ্চি ডায়ামিটার বিশিষ্ট কাটারের দুটি ড্রেজার সেখানে নেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তবু প্রকল্পের আওতায় এ কাজটি করা হচ্ছে বলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় জানানো হয়। বিআইডব্লিউটিএর চারটি ও নদী রক্ষা কমিশনের একটি প্রকল্পের ওপর এ সভা হয়। এতে নৌপরিবহন সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

জানা গেছে, গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতির পরিমাণ ১ হাজার ১৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া মোংলা ঘাষিয়াখালী চ্যানেল খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ চ্যানেলে মাল ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর আগে চ্যানেলটি বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল করত। এ ছাড়া খাগদোন, লাউকাঠি, ভোলা নালা, কীর্তনখোলা, ইছামতি, কর্নতলী, সুরমা এবং কংস নদীর ড্রেজিংও করা হয়েছে এ প্রকল্পের আওতায়। এসব নদীতে সারা বছরই নৌযান চলাচল করছে। প্রকল্পের ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে পতিত বা নিচু জমি ভরাট করে প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিকে কৃষিজমিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ৫শটির মতো শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, ঈদগাহ মাঠ, স্টেডিয়াম, কবরস্থান, গির্জা-মন্দির-তীর্থস্থান ইত্যাদির নিচু জমি ভরাট করা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement