advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেলে-ম্যারাডোনার মতো চেনা উচিত আমাদের রত্ন সাবিনাকেও

সারওয়ার মাহিন খান
২৫ অক্টোবর ২০২০ ১৪:২২ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ১৪:৩৫
পুরোনো ছবি
advertisement

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। ফুটবল প্রথম গ্লোবাল সুপারস্টার পেলে থেকে শুরু করে হালের মেসি-রোনালদোতেও মেতে আছে বিশ্ব। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিশ্বকাপের সময় এদেশের আকাশেও রঙিন পতাকার আসর বসে। না, সেটি বাংলাদেশের পতাকা নয়, ভিনদেশি ফুটবল পরাশক্তি দলগুলোকে ভালোবেসে সেই ভালোবাসার প্রদর্শন দেখায়। যে ভালোবাসার ব্যপ্তি ছড়িয়ে যায় চা স্টল থেকে শুরু করে ব্যস্ত অফিসের কথামালাতেও।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সফলতা আসলেও সমূহ সম্ভাবনাময় ফুটবলটি নানাবিধ কারণে সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখেনি। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীগণ সালাউদ্দিন-প্যাটেলদের থেকে শুরু করে আসলাম, চুন্নু, কায়সার হামিদ পেরিয়ে এই শতকে আলফাজ, মুন্নার দেয়াল ছুঁয়ে জামাল ভুঁইয়াতে এসে ঠেকেছে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে মহিলা ফুটবলে এরকম আইকনিক ব্যক্তি কেউ ছিলই না।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসাইনের বাংলাদেশে মহিলা ফুটবল অনেক পরে এসেছে। প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেছে ২০১১ সালে। তবে আইকনিক ফুটবলার যে এমন বিষ্ময়কর হবে তা কেইবা ভেবেছিলো। বলছিলাম বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা ও কিংবদন্তি সাবিনা খাতুনের কথা।

১৯৯৩ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় পিতা ওয়াজেদ মিয়া এবং মাতা মমতাজ বেগমের কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন সাবিনা খাতুন। জন্মের সময় ৪র্থ কন্যা সন্তানের আগমণে কতটুকু খুশি হয়েছিলেন তা জানা না গেলেও পরবর্তীতে উনাকে নিয়েই গর্ব করেছিলেন এবং এখনো করেন, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল দলের কোচ আকবরের মাধ্যমেই সাবিনার ফুটবল যাত্রা শুরু। আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা পর্যায়ে নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে ভালো খেলার মাধ্যমেই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ও প্রফেশনাল ফুটবল খেলা শুরু। জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। মহিলাদের টপ টায়ার লীগ সবসময় চালু না থাকায় প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ওভাবে খেলার সুযোগ হয় নি।

ঢাকা মেট্টোপলিটন উইমেন্স লিগে মাত্র ১৫ ম্যাচ খেলে ৬৮ টি গোল করেছেন এই গোলমেশিন। বাংলাদেশ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩ ম্যাচে গোল করেছেন ১৩১ গোল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রথম মহিলা ফুটবলার হিসেবে দেশের বাইরে লিগ খেলেছেন তিনি। মালদ্বীপের লিগে খেলতে গিয়ে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের হয়ে মাঠে নেমে ৭ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন তিনি। বাংলাদেশ উইমেন্স সুপার লিগে ১৯ গোল করতে লেগেছে মাত্র ৫ ম্যাচ। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে সেতু এফসির হয়ে ৭ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছি ১৯ টি, যা বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলে সর্বোচ্চ। এত গোল দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গর্ব করার মত আমাদের একজন সাবিনা রয়েছেন। সুনীল ছেত্রীর জাতীয় দলের গোলসংখ্যা দেখানো হয় আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যার তালিকায়। কিন্তু পরিসংখ্যান সংগ্রহের উদাসীনতা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের খামখেয়ালির জন্য সেভাবে সাবিনার রেকর্ডগুলো আমরা দেখি না।

২০১৯ সালে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন যুব দূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সাবিনা। ২০২০ এ স্কয়ার ফুড & বেভারিজ লিমিটেড এর সৌজন্যে পেয়েছেন 'রাঁধুনি কীর্তিমতী - ২০২০' এর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।

ফুটবলার হিসেবেই শুধু নন, শিখছেন কোচিং এর হাতেখড়ি। এএফসির 'সি' ও 'বি' কোর্স সম্পন্ন করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। বাংলাদেশ নারী অনুর্ধ ১৬ জাতীয় দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ মহিলা দলে বর্তমান  প্রজন্মের যারা খেলছেন, তাদের প্রায় সবারই আইডল সাবিনা। খেলাধুলার জন্য পারিবারিক বাধার মুখে পরলে সাবিনার ছবি দেখিয়েও অনেক খেলোয়ার বুঝিয়েছেন যে, মেয়েরাও ফুটবল খেলে।

নারী ফুটবলের শুরুটা খুব বেশিদিনের না হলেও সাবিনার মত এতটা পরিচিতি আগে কেউ পাননি। প্রথম আন্তর্জাতিক সমাদৃত হিরো হিসেবে ব্রাজিলের যেমন পেলে, আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের তেমনি সাবিনা খাতুন। রাত জেগে ইউরোপীয় ফুটবলের খেলা দেখা ফুটবলপ্রেমিক চেনে জোতা পালিশ করা পেলেকে, কয়লার খনিতে বড় হওয়া ডি মারিয়া, রাস্তায় মায়ের সাথে ঝাড়ু দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে, তেমনি চেনা উচিত ছিলো আমাদের রত্ন সাবিনাকে।

আমার ভূখণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করা তারকাকে আমাদেরই পরিচয় করাতে হবে বিশ্বের কাছে। দেশটা আমাদের, দায়িত্বটাও আমাদেরই। আজ এই গুণী মানুষটি জন্মদিন। শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি।

অতিথি লেখক

advertisement
Evaly
advertisement