advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাদ ‘পড়তে পড়তে’ চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহর দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২০ ২০:২০ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২০ ০৮:৩৩
রতন গোমেজ, বিসিবি
advertisement

একটা সময় ফাইনালে যাওয়াই অনিশ্চিত ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দলের। তাকিয়ে থাকতে হয়েছে অন্য দলের ম্যাচের ফলাফলের দিকে। সেই বাদ পড়া আর না পড়ার দোলাচলে থাকা মাহমুদউল্লাহরাই শেষ পর্যন্ত বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের চ্যাম্পিয়ন দল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তদের নিয়ে ফাইনালে এক প্রকার ছেলে খেলা করে সাত উইকেটের বড়  জয় নিয়ে দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়।

টুর্নামেন্টের ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল গত শুক্রবার। বৈরি আবহাওয়া থাকায় শুক্রবারের ফাইনাল গড়ায় আজ রোববারে। ওই আবহাওয়াই সম্ভবত কপাল খুলে দিয়েছে রিয়াদদের। তা না হলে আগের দুই ম্যাচে হারার পর ফাইনালে কীভাবে এমন করে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি! ফাইনালে শুরু থেকেই কর্তৃত্ব বজায় রাখেন রিয়াদরা; বোলিংয়ে সুমন খান-রুবেল আর ব্যাটিংয়ে লিটন-ইমরুল।

রোববার দুপুরে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে নাজমুলদের ব্যাটিংয়ে পাঠান মাহমুদউল্লাহ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারান নাজমুলরা। রুবেলের বোলিংয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। শুরু থেকেই উইকেট হারানোর মিছিলে থাকা নাজমুল একাদশের ব্যাটসম্যানরা ২০০ রানও করতে পারেননি। ১৭৩ রানে ইনিংসের ১৭ বল বাকি থাকতেই সবকটি উইকেট হারান তারা। টার্গেটে খেলতে নেমে সাত উইকেট হাতে রেখে ২০ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে রিয়াদের দল।

পুরো টুর্নামেন্টে ফ্লপ লিটন দাস ফাইনালের মঞ্চে বাজিমাৎ করেন। টার্গেটে খেলতে নেমে শুরু থেকেই চওড়া হতে থাকে তার ব্যাট। লিটন থামেন ৬৮ রান করে। মাত্র ৬৯ বলে ১০টি দৃষ্টিনন্দন চারের মারে তিনি এই রান করেন। তার এমন ব্যাটিংয়েই সহজে জয়ের পথে এগিয়ে যান রিয়াদরা। ম্যাচ শেষ করে আসেন ইমরুল কায়েস ৫৩ ও মাহমুদউল্লাহ ২৩ রানে অপরাজিত থেকে।  নাজমুলদের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি  উইকেট নেন নাসুম আহমেদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সুমন খানের বোলিং তোপে পড়ে নাজমুলের দল। সুমন খান উইকেটের খাতা খুলেছেন মুশফিককে দিয়ে আর যখন সর্বশেষ নাসুম খানকে আউট করছেন, তখন তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে পাঁচ উইকেট। দলটির ১৭৩ রানের মধ্যে ৭৫ রানই এসেছে ইরফান শুক্কুরের ব্যাট থেকে। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি আউট হয়েছেন সবার শেষে। ৭৭ বলে ৮টি চার ও দুটি ছয়ের মারে শুক্কুর ইনিংসটি সাজান। এ ছাড়া অধিনায়ক নাজমুল চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বড় রানের আগেই ফেরেন সাজঘরে। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। ৫৩ বলে ২৬ রান করেন তৌহিদ হৃদয়। মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান।

মাহমুদউল্লাহর দলের হয়ে সুমন খান সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেন। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে তিনি এই উইকেট নেন। রুবেল নেন দুটি উইকেট। এর মধ্যে দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে যান রুবেল। একটি করে উইকেট নেন মেহেদী মিরাজ, এবাদত হোসাইন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নাজমুল একাদশ : ১৭৩/১০ (৪৭.১ ওভার)

সাইফ ৪, সৌম্য ৫, শান্ত ৩২, মুশফিক ১২, আফিফ ০, তৌহিদ ২৬, ইরফান ৭৫, নাইম ৭, নাসুম ৩, তাসকিন ১, আল আমিন ২*; রুবেল ৮-২-২৭-২, সুমন ১০-০-৩৮-৫, এবাদত ৮.১-১-১৮-১, মিরাজ ৯-০-৩৯-১, বিপ্লব ৫-০-২১-০, মাহমুদউল্লাহ ৭-০-২৮-১।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ : ২৯.৪ ওভার ( মুমিনুল ৪, জয় ১৮, লিটন ৬৮, ইমরুল ৫৩*, মাহমুদউল্লাহ ২৩*; নাসুম ১০-০-৪৮-২, আল আমিন ৬-১-৩২-১)

advertisement
Evaly
advertisement