advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডিআরইউর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
নীতিহীন সাংবাদিকতায় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ২২:২৬
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেখানে দুর্নীতি পাচ্ছে, সে দলের যত বড় নেতা বা কর্মী হোক, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। হ্যাঁ, তাতে অবশ্য আমাদের বিরোধীদের বলার বা লেখার সুযোগ হচ্ছে যে- আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করছে। কিন্তু এ কথাটা কেউ চিন্তা করছে না- আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। গতকাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রজতজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিআরইউ। সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার,

ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সংগঠনের সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ, সহসভাপতি নজরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ এবং সদস্য সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে যা রিপোর্ট হচ্ছে বা আমরা খবর পাচ্ছি, কোথাও কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় হলে, আমরা কিন্তু এটি চিন্তা করি না- এর পেছনে আমাদের দল জড়িত, এখানে সরকারের বদনাম বা দলের বদনাম হবে। আমরা চিন্তা করি, এখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি সঙ্গে না থাকে, পাশে না থাকে; তা হলে কোনো জায়গাতেই কিছু অর্জন করা যায় না। আমরা সেটিই বিশ^াস করি এবং সেভাবেই কাজ করছি। তিনি বলেন, জঙ্গিরা প্রকাশ্যে এ দেশে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। সরকারিভাবে তাদের প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পাহারা দিচ্ছে আর বাংলা ভাইয়েরা ট্রাকে করে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে- সে ঘটনাও তো আপনারা দেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা নিজেও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে, এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন না করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ এই রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে, সেসব রিপোর্ট পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই, আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন; সে জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নীতিহীন সাংবাদিকতা পরিহারের জন্য জাতির পিতার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্যবোধ থেকে যেন এটি হয়, সে রকমই আমরা চাই। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনো দেশের কল্যাণ আনতে পারে না। বরং ক্ষতি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে ছিল যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক সেগুলো ধামাচাপা দেওয়া হোত। আর সমস্যাগুলো- ওই যে কথায় বলে যে কার্পেটের তলে লুকিয়ে রাখা। আমাদের সরকারে কিন্তু আমরা তা করছি না।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর এমন একটা অবস্থা হয় যে এসব পত্রিকা চালানো সংবাদপত্র মালিকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বঙ্গবন্ধুই উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন। সরকারি বেতন সবাই পেতেন। সরকারি চাকরির মর্যাদাটা তিনিই দিয়েছিলেন।

প্রপাগান্ডার রাজনীতিতে সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয়েছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয় যে, উনি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছেন। ঘটনা কিন্তু তা নয়, তখন কারো (সংবাদপত্র মালিক) সাংবাদিকদের বেতন দেওয়ার মতো বা সংবাদপত্র চালানোর আর্থিক ক্ষমতা ছিল না। সেই দায়িত্বটা জাতির পিতাই নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য এটি আমার নিজের দেখা যারা সরকারি চাকরি পেয়েছিল তারাই বেশি সমালোচনা করত।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংবাদ শিল্পের উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন।

অতীতে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে একটি মামলা হলেই চট করে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হতো। আমরা পেনাল কোড সংশোধন করেছি। যাতে সাংবাদিকদের হয়রানির সম্মুখীন হতে না হয়।

advertisement
Evaly
advertisement