advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভৈরবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৫৪ লাখ টাকা বিতরণে অনিয়ম

খাইরুল ইসলাম সবুজ ভৈরব প্রতিনিধি
২৬ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০ ২৩:২৫
advertisement

ভৈরবে নরসুন্দরদের প্রাপ্য অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ সমাজসেবা অফিসের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ৩০০ জনের জন্য ৫৪ লাখ টাকা অনুদান থেকে প্রত্যেক নরসুন্দর ১৮ হাজার করে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এ অনুদান থেকে বঞ্চিত শত শত নরসুন্দর।

ভৈরব উপজেলা সামজসেবা অফিস থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নরসুন্দর বা শীল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারের দেওয়া ৫৪ লাখ টাকা পাননি নরসুন্দর সম্প্রদায়। তালিকায় ৩০০ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকায় নরসুন্দরের নাম থাকার কথা থাকলেও প্রকৃত নরসুন্দরের নাম নেই। এ বিষয়ে জানা নেই শীল সমিতির নেতাদেরও। ফলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার আগানগরের আনন্দবাজারে সিরাজ মিয়া ২২ বছর ধরে কাজ করছেন। তালিকাভুক্তির জন্য তিনবার নাম নিলেও তার কপালে একবারও জোটেনি সরকারি অনুদানের অর্থ। তার মতো শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলী ১৯ বছর ধরে একটি চাপড়াঘরে দুটি ভাঙা চেয়ার ও এক টুকরো কাপড় নিয়ে নাজুক পরিবেশে কাজ করছেন। শুধু সিরাজ আর মোহাম্মদ আলী নয়, এমন আরও অসহায় ও গরিব অনেকে শীল বা নরসুন্দর হিসেবে বছরের পর বছর ধরে কাজ করে যারা সংসার চালাতে হিমশিম খায়, তাদেরই নাম নেই তালিকায়। অথচ গজারিয়া ইউনিয়নের নরসুন্দরের তালিকায় রয়েছে এক সাবেক ইউপি সদস্য ও তার ছেলে। অন্যদিকে একই দোকানের একাধিক নরসুন্দরের নাম রয়েছে। ছেলে নরসুন্দরের কাজ করলেও বাবা করেন সবজি ব্যবসা। এ ছাড়া শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আরেক নারী ইউপি সদ্যেস্যের ছেলে এবং তার মেয়ের জামাতার নাম তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের সেলুনগুলোর তিন দিকই থাই অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেমে গ্লাস দিয়ে ঘেরা। তাদের সেলুনে রয়েছে একাধিক কারিগর। শুধু তাই নয়, নরসুন্দরের তালিকায় নাম রয়েছে- জেলে, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রিসহ বাদাম বিক্রেতারও। এই চিত্র উপজেলার সাদেকপুর ও আগানগরসহ সবকটি ইউনিয়নের। এ ছাড়া এসব টাকা বিতরণে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার টাকা। ফলে এ ঘটনা জানাজানির পর তালিকা তৈরিতে জড়িত সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসী।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নসহ পৌরশহরের ৩০০ জনের মাঝে জনপ্রতি ১৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে ভৈরব বাজারের পরিমল শীল, শেমল শীল, নন্দলাল শীল অভিযোগ করে বলেন, কখন তালিকা তৈরি করেছে সে খবরই আমরা জানি না। কোন শীল টাকা পেয়েছে তাও আমাদের জানা নেই।

সেলুন ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি কাজল শীল বলেন, আমাদের সকল নরসুন্দরের তালিকা উপজেলায় দেওয়া আছে। কিন্তু এ অনুদান সম্পর্কে আমাদের জানানো হয়নি। কেউ এ টাকা পেয়েছে বলেও আমার জানা নেই। এখানে একটা বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ এ নেতার।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সামজসেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা জানান, ৩৩ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি ৬৭ শতাংশের ধাপে ধাপে প্রস্তাব পাঠানো হবে। শীলের পেশাটি যেন সমাজ থেকে হারিয়ে না যায়, তার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

advertisement
Evaly
advertisement