advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণ, পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ অক্টোবর ২০২০ ১৪:৫৬ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১৭:২১
গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজু
advertisement

রংপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক স্কুলছাত্রীকে অন্যের বাসায় ডেকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মহানগর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুর বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনায় হারাগাছ থানায় মামলা হয়েছে। এএসআই রাজুকে সাময়িক বরখাস্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা রায়হানুলকে রোববার রাতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিকটিমের বাবা দুজনকে আসামি করে হারাগাছ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন। আসামি দুজন হলেন ডিবি কর্মকর্তা রায়হানুল ও এক নারী। তাদের পুলিশের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবু মারুফ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্ষণের ঘটনায় রাজু নামের একজন পুলিশ সদস্য জড়িত বলে মেয়েটি জানিয়েছে। তবে ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুলের ডাকনামও রাজু। তার সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি (ডিবি পুলিশের এএসআই) ধর্ষণ করেছেন কিনা, তা জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, রোববার সকালে মহানগরের হারাগাছ থানার কেদারের পুল এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে এ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই বাসা থেকে এক নারীকে (৩৫) আটক করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানাধীন ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সম্প্রতি হারাগাছ থানা থেকে বদলি হওয়া রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম। মেয়েটির সঙ্গে পরিচয়ের সময় রায়হানুল তার ডাক নাম রাজু বলে জানান। সম্পর্কের সূত্র ধরে রোববার সকালে ওই কিশোরীকে কেদারের পুল এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার বাড়ির এক ভাড়াটের বাড়িতে ডেকে নেন রায়হান। সেখানে আসার পর রায়হান ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এরপর রায়হানের আরও কয়েকজন পরিচিত যুবক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় সেখান থেকে বের হয়ে ওই ছাত্রী টহল পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে ওই ছাত্রী যে ব্যক্তির ঘরে ধর্ষণের শিকার হয়, তাকে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। 

ভুক্তভোগীকে রাত ১২টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের এএসআইসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে হারাগাছ থানায় মামলা করেন।

advertisement
Evaly
advertisement