advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনুদানের অনেক ছবির ভবিষ্যৎ কী

ফয়সাল আহমেদ
২৭ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১২:৩৫
advertisement

ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহ দিতে ১৯৭৬ সালে চালু হয় সরকারি অনুদান প্রথা। মাঝের কয়েক বছর ছাড়া প্রতি বছরই অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে অনুদান পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ থাকলেও ছবি নির্মাণে নেই কোনো তাগাদা। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬০টি ছবিকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। অথচ মুক্তি পেয়েছে মাত্র ২০টি ছবি! বাকি ছবিগুলোর মধ্যে অনেক ছবি আছে, যার শুটিং সম্পন্ন হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। সময়মতো ছবির নির্মাণ শেষ না করায় এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে! তাতেও কোনো লাভ হয়নি। এত অল্প টাকায় সিনেমা নির্মাণ করা যায় না- নির্মাতাদের এ অভিযোগের ভিত্তিতে অনুদানের টাকা বাড়িয়ে দিয়েও ঠিকঠাকমতো সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। এতকিছু জেনেও সরকার প্রতিবছর মোটা অঙ্কের অনুদান দিচ্ছে ছবি নির্মাণের জন্য।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, ‘বাংলাদেশ সরকারের অনুদান পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই সঠিক সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয় না। অনুদানের অর্থে নির্মিত ছবিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার শর্ত থাকলেও পরিচালকরা ব্যর্থ হচ্ছেন। অনুদান পাওয়ার পর অনেক নির্মাতা একটি ছবি নির্মাণে এই অর্থ যথেষ্ট নয়- এ অজুহাত দেখান। অথচ তারা অনুদানের অর্থের পরিমাণ জেনেই আবেদন করেন।’

যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অনুদানের প্রথম চেকপ্রাপ্তির ৯ মাসের মধ্যে অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। তবে বিশেষ অবস্থায় অনুরোধ সাপেক্ষে পরিচালক ওই সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক নির্মাতা ছবি নির্মাণে বছরের পর বছর পার করছেন।

অনুদান নিয়ে ছবি মুক্তি না দেওয়ার প্রথা চালু হয় ১৯৮২-৮৩ সালে। সে সময় অনুদান পায় পাঁচটি ছবি। ‘দহন’, ‘ডাক দিয়ে যাই’, ‘ফুলমতি’, ‘পেনশন’ ও ‘উদয় তারা’র মধ্যে তিনটিই আলোর মুখ দেখেনি। পরিচালক ইসমাইল মোহাম্মদের মৃত্যুর পর ‘ডাক দিয়ে যাই’ ও মাসুদ করিমের মৃত্যুর পর ‘ফুলমতি’ বন্ধ হয়ে যায়। নায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল ‘উদয় তারা’র জন্য এক লাখ টাকা অনুদান পেলেও ছবি জমা দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘পেনশন’ মুক্তির পর ১৯৮৪ সালে ছবিটিকে নিষিদ্ধ করে সরকার। শেখ নিয়ামত আলীর ‘দহন’ মুক্তি পায় ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৪-৮৫ অনুদানের টাকা ফেরত দিয়েছেন নির্মাতা শমশের আহমেদ। কারণ ‘অচেনা বন্দর’ নামের চলচ্চিত্রটির জন্য এক লাখ টাকা অনুদান পান তিনি। এই টাকায় ছবি নির্মাণ সম্ভব নয়, তাই অনুদান ফেরত দেন।

১৯৯৪-৯৫ এ চারটি ছবিকে অনুদান দেওয়া হয়। মোরশেদুল ইসলামের ‘দীপু নাম্বার টু’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে, চাষী নজরুল ইসলামের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। মোস্তাফিজুর রহমান ‘পথ বেঁধে দিল’র জন্য পাওয়া টাকা ফেরত দেন। ইসমাইল হোসেন ‘চোখের মণি’ নির্মাণ করেননি, টাকাও গ্রহণ করেননি। ১৯৯৫-৯৬ এ খান আতার ‘এখনো অনেক রাত’ নির্দিষ্ট সময়ে মুক্তি দিলেও মনিরুজ্জামান মনিরের ‘পদ্মা আমার জীবন’ মুক্তি পায় ১৩ বছর পর ২০০৮ সালে। শাহজাহান চৌধুরীর ‘উত্তরের খেপ’ মুক্তি পায় পাঁচ বছর পর ২০০০ সালে। ১৯৯৬-৯৭ ‘জননী’, ‘সনাতন গল্প’ ও ‘নিষিদ্ধ লোবান’ এই তিনটি ছবি অনুদান পায়। এর মধ্যে ‘জননী’র জন্য জাঁ নেসার ওসমান অর্থ গ্রহণ করেননি। ‘নিষিদ্ধ লোবান’-এর জন্য অর্থ গ্রহণ করেননি নাসির উদ্দীন ইউসুফ। ‘সনাতন গল্প’র নির্মাতা মাসুম আজিজ ছবিটি মুক্তি দেন ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর। ২০০০-০১ সাইদুল আনাম টুটুলের ‘আধিয়ার’ ও রেজানুর রহমানের ‘তাহাদের কথা’ অনুদান পায়। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় ‘আধিয়ার’। ‘তাহাদের কথা’র জন্য প্রথম কিস্তি বাবদ তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা পান রেজানুর রহমান। ছবি নির্মাণ না করায় ১৪ বছর পর ২০১৫ সালের নভেম্বরে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেন। ২০০৭-০৮ সালে এনামুল করিম নির্ঝরের ‘নমুনা’ আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড। ২০০৮-০৯ এ অনুদান পাওয়া ‘স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের কাল’ ছবির কাজ শেষ করতে পারেননি পরিচালক জুনায়েদ হালিম। ২০০৯-১০ এ ‘সূচনারেখার দিকে’ ছবির পরিচালক আখতারুজ্জামান মারা গেছেন ২০১১ সালের আগস্টে। ২০১১-১২ এ ‘জীবনঢুলি’, ‘মৃত্তিকা মায়া’ ও ‘হেডমাস্টার’ মুক্তি পায়। সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকীর ‘একা একা’, মারুফ হাসানের ‘নেকড়ে অরণ্যে’, প্রশান্ত অধিকারীর ‘হাডসনের বন্দুক’ মুক্তি পায়নি।

২০১২-১৩ ‘একাত্তরের মা জননী’, ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’, ‘মেঘমল্লার’ ও ‘খাঁচা’ মুক্তি পেয়েছে। নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর ‘কাগজের ফুল’ ছবির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। ‘কাঁটা’র পরিচালক টোকন ঠাকুরকে বেশ কিছুদিন অর্থায়নের জন্য সহপ্রযোজক খুঁজতে দেখা গেছে। সরকারি অর্থ তছরুপের কারণে টোকন ঠাকুরকে গত রবিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গতকাল তিনি জামিন পান। ‘যৈবতী কন্যার মন’-এর পরিচালক নারগিস আক্তার বলেছেন, তার ছবির কাজ শেষ। ২০১৩-১৪ মুক্তি পেয়েছে ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘লাল চর’, ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘লাল সবুজের সুর’, ‘ছিটকিনি’। জাঁ নেসার ওসমানের ‘পঞ্চসঙ্গী’র কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ‘কাঁসার থালায় রুপালি চাঁদ’ ছবির কাজ শেষ বলেছেন পরিচালক ড্যানি সিডাক। ২০১৪-১৫ ‘ভুবন মাঝি’ ও ‘রীনা ব্রাউন’ মুক্তি পেয়েছে। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’র শুটিংয়ের কাজ শেষ বলেছেন পরিচালক নূরুল আলম আতিক। ‘চন্দ্রাবতী কথা’র পরিচালক এন রাশেদ চৌধুরী জানান, ছবির কাজ শেষ। ‘বিউটি সার্কাস’-এর পরিচালক মাহমুদ দিদারও বলেন, ছবির কাজ শেষ। ২০১৫-১৬’র ‘সাবিত্রী’র শুটিং এখনো শুরু হয়নি। কামার আহমাদ সাইমনের ‘শঙ্খধ্বনি’র (শিকলবাহা) কাজ চলছে। ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ছবির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান নির্মাতা এসডি রুবেল। ২০১৬-১৭ ‘নোনাজলের কাব্য’, ‘রূপসা নদীর বাঁকে’র শুটিং চলছে। ‘আজব সুন্দর’-এর কাজ শেষ হয়নি। ‘প্রিয় জন্মভূমি’র কাজ থেমে আছে। ‘দায়মুক্তি’র খবর নেই। ২০১৭-১৮ ‘গোর’, ‘কালবেলা’, ‘অলাতচক্র’, ‘আজব ছেলে’ ও ‘অবলম্বন’। কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ গত এপ্রিলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কবরীর

‘এই তুমি সেই তুমি’, মীর সাব্বিরের ‘রাতজাগা ফুল’, হোসেন মোবারক রুমীর ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’, হৃদি হকের ‘১৯৭১ সেই সব দিন’, শমী কায়সারের ‘স্বপ্ন মৃত্যু ভালোবাসা’ ও আকরাম খানের ‘নকশি কাঁথার জমিন’।

advertisement
Evaly
advertisement