advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নোয়াখালীতে দায়িত্বে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, আদালতে মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর ২০২০ ২০:৫৪ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৪
পুরোনো ছবি
advertisement

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বরতদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত নবজাতকের দাদি তাহের বেগম নয়ন (৫১) বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতের বিচারিক হাকিম সোয়েব উদ্দিন খান মামলাটি আমলে নিয়ে নির্দেশ পাওয়ার এক কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে (আরএমও) নির্দেশ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নয়জনকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন বাদী।

মামলায় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স বিথীকা রাণী হাওলাদার, গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. লাইনুন নাহার, ডা. নাছির (ইন্টার্নি), সিনিয়র নার্স সামছুন নাহার, মমতাজ বেগম, ম্যাটস ছাত্র নাঈম, আয়া পুতুল রানী, জহুরা বেগম ও সারজাহানকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত নবজাতক জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জীবন উদ্দিন ও আসমা আক্তার দম্পতির সন্তান। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভোর ৫টার দিকে আসমা আক্তারের প্রসব ব্যাথা উঠলে তার শাশুড়ি তাহেরা বেগম নয়ন আসমাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করেন। ভর্তির পর গৃহবধূর শাশুড়ি নয়ন হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স বিথীকা রাণী হাওলাদারকে বার বার ডাকা সত্ত্বেও তিনি ঘুম থেকে উঠেননি। কিছুক্ষণ পর নার্স বিথীকা ঘুম থেকে উঠে ইন্টার্নি ডা. নাছির ও আয়া মারজাহানের যোগসাজশে বলেন, ‘টাকা দিলে তারা বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করবেন। আর টাকা না দিলে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে সিজার করতে হবে।’ এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ম্যাটস ছাত্র নাঈম অন্তঃসত্ত্বার লজ্জাস্থানের ভিডিও ধারণ করেন। ওই গৃহবধূর শাশুড়ি নয়ন প্রতিবাদ করলে নাঈম বলেন, ‘এ ভিডিও আমাদের ট্রেনিংয়ের জন্য লাগবে।’ নিরুপায় হয়ে শাশুড়ি নয়ন গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. লাইনুর নাহারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি হাসপাতালে আসেননি।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, হাসপাতালে ওইসময় সিনিয়র নার্স দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও গৃহবধূকে আয়া ও ম্যাটসের ছাত্র দিয়ে ডেলিভারি করানো হয়। ওই সময় তারা নবজাতকের ঘাড় ধরে জোরপূর্বক বের করায় নবজাতকের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কালো হয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। টানা হিঁচড়ার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে জীবিত নবজাতক প্রসব হওয়ার মাত্র ২-৩ মিনিটের মধ্যে মারা যায়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও হাজীপুর ইউপির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তাহের বেগম নয়ন জানান, ওইদিন তারা লাশ নিয়ে বাড়িতে এসে দাফন করেন। পরদিন ২২ অক্টোবর এ ঘটনায় অভিযোগ দিতে হাসপাতালে গিয়েও তারা আরএমও’কে না পেয়ে ফিরে আসেন। এর পরদিন আবারও হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরদিনি ২২ অক্টোবর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আফসার, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হেমা সানজিদা ও নাসিং সুপারেন্টেন্ড বেবী সুলতানাকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই তদন্ত কমিটি কোনো লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

advertisement
Evaly
advertisement