advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামির ১০ বছর করে কারাদ-

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও বরগুনা প্রতিনিধি
২৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:২৮
advertisement

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে হত্যাকা-ে সরাসরি অংশ নেওয়া ৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। অন্য ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সারাদেশে ‘কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অপসংস্কৃতির ধারা’ প্রতিরোধ করতে আসামিদের এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে মন্তব্য করেছেন বিচারক। বরগুনার জেলা শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামি হিসেবে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়।

গতকাল রায়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ছয়জনকে ১০ বছর করে, চারজনকে ৫ বছর করে এবং একজনকে ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদ- দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অন্য তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে রায় ঘোষণা শুরু করেন বরগুনা জেলা শিশু আদালতের বিচারক। রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রায়ে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এ হত্যাকা-ে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং যারা হত্যায় অংশ না নিলেও দর্শকের ভূমিকায় ছিল, তাদের ৫ বছর করে

কারাদ- দেওয়া হয়েছে। একজন আসামির বয়স কম হওয়ায় তাকে ৩ বছর কারাদ- দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, আলোচিত এ হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে সারা দেশে যে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে, তা উৎসাহিত হবে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বরগুনার শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন দেশে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধের তুলনায় কিশোরদের শাস্তির পরিমাণ কম হওয়ায় গডফাদাররা কিশোরদের ব্যবহার করছে। তাই আদালত বলেছেন কিশোর অপরাধ নির্মূলের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শাস্তির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এ জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব। হত্যার ঘটনায় অতিরিক্ত বেশ কিছু সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনা কারাগারে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। জামিনে থাকা আট আসামিও আদালতে হাজির হয়।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি ছিলেন এ মামলার প্রধান সাক্ষী। একপর্যায়ে তাকেও আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ওই হত্যাকা-ের ৬ দিন পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক- দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এর মধ্যে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ জনকে মৃত্যুদ- দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে ওই রায়ের অনুলিপি হাইকোর্টে এসেছে। এ ছাড়া আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। ১৩ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

advertisement
Evaly
advertisement