advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে হাসান সারওয়ার্দীর মামলা

আদালত প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:৪৪ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২০ ১২:৫৮
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। পুরোনো ছবি
advertisement

সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী ফারজানা নিগারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। আজ মঙ্গলবার  সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের দপ্তর সম্পাদক আডভোকেট এইচ এম মাসুম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফারজানা নিগার চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর প্রথম স্ত্রী ছিলেন। পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর নিগার চৌধুরী অন্যত্র বিবাহ করলেও বাদীকে নানাভাবে হয়রানি করেন।

সবশেষ গত ৮ অক্টোবর আসামি মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠান। যেখানে তিনি সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা বলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। এ ছাড়া বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে অশালীন গালিগালাজ করে। ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে বাদীসহ সেনাবাহিনীকে নিয়ে মানহানিকর, আক্রমণাত্মক ও ভীতি প্রদর্শন করে তিনি  খুদে বার্তা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সব সেনানিবাস এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিএ-২০০৪ লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (অবসরপ্রাপ্ত) বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সেনানিবাসে প্রবেশ এবং সেনাবাহিনী সম্পর্কে মিথ্যাচার করেন, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উল্লেখ্য, তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর এনডিসির কমান্ড্যান্ট থাকাবস্থায় একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এনডিসিতে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্সের সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণকালেও অনেক মেয়েকে নিয়ে চলাফেরা করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার এই অশোভনীয় আচরণ এবং মেলামেশার ছবি গোচরীভূত হলে কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে উপদেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, তিনি এলপিআরে এ থাকাকালীন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট প্রথম স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন এবং সেনা আইন বর্হিভূতভাবে মেসকিট (সামরিক পোশাক) পরে ২১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিবাহ করেন। কিন্তু তিনি বিবাহের পূর্বে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে ৩ নভেম্বর ২০১৮ থেকে একই বাসায় অনৈতিকভাবে অবস্থান করেন। এমনকি তিনি বিবাহের পূর্বে তাকে সাথে নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন, সাজেক রিসোর্ট, খাগড়াছড়ি’তে অবকাশ যাপন, বিভিন্ন সময় ভারত, থাইল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ ও অবস্থান করেন, যার সচিত্র আলামত সামরিক ও অসামরিক পরিমন্ডলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এছাড়াও তিনি যাকে বিয়ে করেন সে একজন বিতর্কিত নারী হিসেবে পরিচিত।

আইএসপিআর আরও জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর (অব.) এ ধরনের আচরণ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর। এ ধরনের ঘটনা সেনাবাহিনীতে কর্মরত অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর মধ্যে নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে ও বিরূপ প্রভাব ফেলে। সামগ্রিক বিবেচনায়, গত ১০ এপ্রিল ২০১৯ এই কর্মকর্তাকে (চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী) সেনানিবাস ও সেনানিবাস আওতাভুক্ত এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, সেনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ‘অবাঞ্চিত ব্যক্তি’র জন্য সেনানিবাস ও সেনানিবাসের আওতাভুক্ত সব স্থাপনা এবং সেনানিবাসের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা যেমন- সিএমএইচ এ চিকিৎসা সেবা, অফিসার্স ক্লাব, সিএসডি শপ ইত্যাদিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।

advertisement
Evaly
advertisement