advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেয়ের সামনে নাটোরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে যুবককে পিটিয়ে খুন

২৮ অক্টোবর ২০২০ ০১:০০
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২০ ০১:০০
advertisement

নাটোরে সন্তানের সামনেই ইটভাটা শ্রমিক আনোয়ার বেগম শিল্পীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার স্বামী। গত সোমবার মধ্য রাতের এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ঘাতক মনির। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরে বিয়ে বাড়ির তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. সোহেল (২২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শিল্পীর ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মহিমা জানায়, মনির সোমবার রাত ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে স্ত্রী শিল্পীকে নিয়ে ঘরের বাইরে যায়। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রীকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপায় মনির। এতে শিল্পীর ডান হাতের কবজি বিছিন্ন হয়ে যায় এবং গলা ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। মহিমা সেই দৃশ্য দেখার পর তার মামা
বেলালকে ডেকে আনে। কিন্তু তার আগেই মনির পালিয়ে যায়। নিহতের বড় ভাই বেলাল বলেন, ‘স্থানীয়দের সহায়তায় আমার বোনকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।’
হাসপাতালের আরএমও ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানায়, মনির গত দুবছর নাটোরে ছিল না। এ সময় সে তার স্ত্রী-সন্তানদেরও খোঁজখবর নেয়নি। ইটভাটার শ্রমিক কিংবা মানুষের বাসা-বাড়িতে কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন শিল্পী। পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কিছু টাকা জমিয়েও রাখেন। এর মধ্যে ছয়দিন আগে বাড়িতে ফিরে আসে মনির। স্ত্রীর জমানো টাকার ওপর অশুভ দৃষ্টি পড়ে তার। কিন্তু সেই টাকা না দেওয়ায় কলোহ সৃষ্টি হয়। শিল্পীর বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মৌমিতা জানায়, বাড়িতে ফিরে তার বাবা প্রতিদিনই মাকে নির্যাতন করত।
নাটোর সদর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় মনিরকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের ভাই বেলাল মামলা করেছেন। এ ছাড়া নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা নিজে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে শিল্পীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মনিরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর : সদর উপজেলার চররমনী মোহনে স্থানীয় একটি বিয়ে বাড়িতে গত রবিবার রাতে মো. সোহেলের সঙ্গে এলাকার বখাটে সুমন, দিদার ও জুয়েলের বাগবিত-া হয়। সেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে মোহন ডাক্তারবাড়ীর সামনে তার ওপর হামলা চালায় ওই বখাটেরা। এ সময় তারা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে সোহেল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা দেখে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথেই গতকাল ভোরে তিনি মারা যান। নিহত সোহেল স্থানীয় বাসিন্দা মো. স্বপনের ছেলে এবং পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পেয়েই মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

advertisement
Evaly
advertisement