advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে তুলে রাতভর গণধর্ষণ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
২৮ অক্টোবর ২০২০ ২১:০৮ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২০ ২২:১০
মাইক্রোবাসে তুলে গৃহবধূকে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে এক গৃহবধূকে (২০) রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে ওই চারজনকে আসামি করে বোদা থানায় ওই মামলা করেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন-বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সোনাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ওরফে রতন (২৫), একই এলাকার আমিরুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় পৌরসভার নিমনগর এলাকার বাসিন্দা ও মাইক্রোবাসচালক শহীদুল ইসলাম (২৭) এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার নুর আলম (২৪)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই গৃহবধূর সঙ্গে সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম ওরফে রতন নামে এক তরুণের মুঠোফোনে পরিচয় হয়। এরই সূত্র ধরে মাঝে মধ্যে তাদের ফেনে কথা হতো। গত সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। এরপর সন্ধ্যায় জাহিদুল ওই গৃহবধূর মুঠোফোনে কল দিয়ে তার মন খারাপ বলে জানতে পারেন। এর সুযোগ নিয়ে জাহিদুল ওই গৃহবধূকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ময়দানদিঘী বাজারে আসতে বলেন। জাহিদুলের কথায় বিশ্বাস করে সন্ধ্যার পর ওই গৃহবধূ ময়দানদিঘী বাজারে আসেন।

পরে ময়দানদিঘী বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে একটি অটো রিকশাযোগে কাজী অফিসে যাওয়ার কথা বলে ওই গৃহবধূকে নিয়ে প্রথমে বোদা বাজারে ও পরে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে যান জাহিদুল। এ সময় তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে সঙ্গ দেন নুর আলম। রাতে রেল স্টেশন এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে জাহিদুল ইসলাম, অটোরিকশাচালক আমিরুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল নিয়ে সঙ্গে থাকা অপর সহযোগী নুর আলমসহ ওই গৃহবধূ রাতের খাবার খান। এ সময় জাহিদুল মুঠোফোনে শহীদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে মাইক্রোবাস নিয়ে আসতে বলেন। এরপর ওই গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে তুলে প্রথমে সদর উপজেলার মালাদাম বাজারে নিয়ে যান তারা। পরে গভীর রাতে সেখান থেকে পঞ্চগড় শহরের মৈত্রী ফিলিং স্টেশনের সামনে মাইক্রোবাসটি এনে দাঁড় করান। সেখানে মাইক্রোবাসের ভেতরেই ওই গৃহবধূকে মারধর করে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে জাহিদুল ও মাইক্রোবাস চালক শহীদুল রাতভর ধর্ষণ করেন। এ সময় মাইক্রোবাসের বাইরে ঘোরাফেরা করেন অটোরিকশা চালক আমিরুল ও মোটরসাইকেল নিয়ে সঙ্গে থাকা অপর সহযোগী নুর আলম পাহারা দেন।

মঙ্গলবার ভোরে জাহিদুল ইসলাম ওরফে রতন মোটরসাইকেলযোগে ওই গৃহবধূকে বোদা বাসস্ট্যান্ট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান। পরে সেখানে তাকে দেখে ওই গৃহবধূর স্বামীকে মুঠোফোনে জানান এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার স্বামী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

এরপর মঙ্গলবার রাতেই ওই গৃহবধূ বোদা থানায় গিয়ে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ জাহিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপর তিনজনেকও গ্রেপ্তার করে। পরে ধর্ষণের সময় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি পঞ্চগড় শহরের সিএন্ডবি মোড় এলাকা থেকে জব্দ করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার চারজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’

advertisement
Evaly
advertisement