advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাকিবের প্রত্যাবর্তন
তার ও ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি কাম্য

৩০ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২০ ২১:৩৯
advertisement

বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানের ওপর আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা অবশেষে শেষ হলো। গত বছর এই সময়ে জানা যায় যে, একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের দুটি ম্যাচ ও আইপিএলের একটি ম্যাচ পাতানোর জন্য জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব সম্পর্কে তখন তিনি আইসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করেননি। এটি আইসিসি প্রণীত খেলোয়াড়দের আচরণবিধিতে তৃতীয় ডিগ্রির অপরাধ। ফলে তার ওপর এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট খেলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। তখন সাকিব বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ছিলেন। এ সময়ই বাংলাদেশের ভারত সফর থাকায় বিসিবি দ্রুত তার স্থলে টেস্ট দলের অধিনায়ক করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হককে এবং একদিনের দলের অধিনায়ক করেন জ্যেষ্ঠ অলরাউন্ডার মাহমুদ উল্লাহকে। এখন তিনি তার পদ ফিরে পাবেন কিনা, এ নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।

আমরা আন্তরিকতার সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডারের পদ ধরে রাখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সাকিব আল হাসানের ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই। তার একাধিক কোচ বলেছেন, এই প্রত্যাবর্তন তাকে আরও দৃঢ়চেতা ও সফল করবে তার খেলায়। আমরা মনে করি- তার যেমন খেলার দক্ষতা রয়েছে, তেমনি তিনি যথার্থ খেলোয়াড়ি মনের অধিকারী তারকা। নিজের সামর্থ্য, অবস্থান ও ভক্তদের প্রত্যাশা সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমাদের মনে আছে, আরও কম বয়সে তার খেলোয়াড়ি জীবনের প্রথম পর্বে তিনি বিসিবির কাছ থেকে শাস্তি পেয়েছিলেন। ফলে আশা করব, বর্তমান পরিণত সাকিব তার ভবিষ্যৎকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উজ্জ্বল করে তুলবেন।

বলা বাহুল্য, ওই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সাকিবকে খেলার মাঠেই প্রথমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। এর পর মাঠের বাইরের আচরণ ও ভূমিকায় একই স্বচ্ছতা এবং পরিচ্ছন্নতার প্রমাণ রাখতে হবে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের জীবন থেকে শিক্ষা এবং প্রেরণা নিতে পারেন। বল টেম্পারিংয়ের জন্য উভয়ে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি ভোগ করে খেলায় ফিরে পারফর্ম করে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করছেন এবং অনেকটাই করেছেন। সাকিবকেও এ পথেই চলতে হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এই সূত্রে বলব, আমাদের সব ক্ষেত্রের খেলোয়াড়দের জন্য সাকিব এক দৃষ্টান্ত হতে পারেন। আজকাল আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের আচরণবিধির ব্যাপারে নানা বিধি-বিধান চালু হয়েছে এবং এগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। অতীতে মাদকের ব্যবহার, বলবর্ধক স্টেরয়েড গ্রহণসহ আচরণগত অনেক সমস্যা নিয়েই খেলার জগৎ চলেছে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনে এখনো পাতানো খেলা, রেফারি-আম্পায়ারদের ওপর হামলা, মাঠে ক্লাবকর্তাদের বেপরোয়া ভূমিকার সমস্যা রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত পরীক্ষাও কঠোরভাবে মানা হয় না। আমাদের মনে হয়, ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ও এর উন্নতি ঘটাতে হলে এ ধরনের বিধান এবং এসবের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।

যা হোক, আমরা সাকিবকে নিয়ে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রা কামনা করি।

advertisement
Evaly
advertisement