advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গ্রামীণ টেলিকম
এমডি ছাড়া সব কর্মীকে ছাঁটাই

৩০ অক্টোবর ২০২০ ০১:০৫
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২০ ০১:০৫
advertisement

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া বাকি সব কর্মীকে ছাঁটাই করেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে স্থায়ী ১০০ কর্মীর মধ্যে ৯৯ জনকেই ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ইউনিয়ন সদস্য ও নেতারাও রয়েছেন। কর্মীদের পাওনা চেয়ে মামলা করায় এমনটি করা হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।
এ বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান বলেন, আমরা শ্রম আইনের বিধান মেনেই ৯৯ জন কর্মীকে টার্মিনেট করেছি। তারা তাদের যাবতীয় পাওনা বুঝে পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কামরুজ্জামান অ্যাপোলো বলেন, কোনো নোটিশ ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সিবিএর সঙ্গে আলোচনা না করেই গত ২৫ অক্টোবর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া সব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ড. ইউনূসের মতো একজন সম্মানিত মানুষের পক্ষে এমন বেআইনি কাজ মেনে নেওয়া যায় না। গ্রামীণ টেলিকম একটি লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়াও হয়ে যায়নি। তাই এমন প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে সব শ্রমিক ছাঁটাই সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা তার কাছে অনুরোধ করছি, অনতিবিলম্বে এই অবৈধ টার্মিনেশন তুলে নেন; নতুবা আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করব। দ্রুত ছাঁটাইয়ের নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আগামী ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও শ্রম অধিদপ্তর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান; ৩ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রামীণ টেলিকম প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং ৫ নভেম্বর ড. ইউনূসের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান বলেন, ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন মানে না এটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। সেই ১২টি লঙ্ঘন এখনো পরিপূর্ণ না করে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাঁটাই করছেন, যাতে সরকার ও শ্রমিকদের পাওনা দিতে না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ২০১৬ সালে প্রথম মামলা করে গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ১৪ কর্মী। পরে বকেয়া পাওনা চেয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ৯৩টি মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের বর্তমান কর্মীরা। ঢাকার শ্রম আদালতে সব মিলে ১০৭টি মামলা করা হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ১৪ কর্মী আরও ১৪টি মামলা করেন পাওনা টাকার জন্য।
কামরুজ্জামান অ্যাপোলোর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিয়াজোঁ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, যুববিষয়ক সম্পাদক বাবুল আক্তার, প্রচার সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল হক, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম মাহমুদ সোহাগ প্রমুখ।

advertisement
Evaly
advertisement