advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাটিচাপা দেওয়া স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ অক্টোবর ২০২০ ১০:২২ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৩:৩২
আসাদের বাড়ির পেছন থেকে তার ও স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ
advertisement

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের একদিন পর নিজেদের বসতঘরের পাশে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ৭ বছর বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট এলাকা থেকে গলাকাটা মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন আসাদ মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪২) ও তাদের সাত বছরের সন্তান মো. লিয়ন। তারা সবাই জামশাইট গ্রামের কান্দাপাড়ার বাসিন্দা। এ ঘটনায় দ্বীন ইসলাম (৪২), জুমেলা খাতুন (৬২) ও নাজমা বেগম (৩০) নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে আসাদের মা হলেন জুমেলা, দ্বীন ও নাজমা ভাই-বোন।

জমিসংক্রান্ত ঘটনা ছোট ভাই দ্বীন ইসলামের হাতে পরিবারসহ খুন হয়েছে আসাদ, দাবি পুলিশের। জানা গেছে, কান্দাপাড়ার মীর হোসেনের ছেলে আসাদ দীর্ঘদিন ঢাকায় কাজ করার পর কয়েক বছর আগে নিজ এলাকায় ফিরে একটি প্লাস্টিক পণ্যের দোকান দেন। দোকানে তাকে সহায়তা করত তার মেজ ছেলে মোফাজ্জল মিয়া (১৬)। বড় ছেলে তোফাজ্জল মিয়া (১৮) ঢাকায় থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে দ্বীন ইসলামের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বাঁধে আসাদের। সম্প্রতি দুই ভাইয়ের বিরোধ মারমুখী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একটি মামলা রয়েছে।

যা ঘটেছিল
নিহত আসাদের মেজ ছেলে মোফাজ্জলের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে দোকানে অবস্থান করার পর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি এসে পরিবারের কাউকে ঘরে দেখতে পায়নি সে। ঘরের মধ্যে রক্তের ছাপ দেখে পুলিশকে জানায় সে। পরে তাদের বাড়ি এসে মাটি খুঁড়ে আসাদ-পারভিন ও লিয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় দ্বীন ইসলাম ছিলেন না। পরে তাকে ঘর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তার মা ও বোনকেও আটক করা হয়।

মোফাজ্জল জানায়, সম্পত্তি নিয়ে চাচা দ্বীন ইসলামের সঙ্গে তার বাবার বিরোধ চলছিল। চাওয়ামতো সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া না হলে হত্যার হুমকি দেন দ্বীন ইসলাম। গতকাল সকালে ঘরে ফিরে বাবা-মা, ভাইকে না পেয়ে এবং ঘরে রক্তের ছাপ দেখে ঘটনা আঁচ করতে পারে সে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন দ্বীন ইসলামের মা ও বোন। কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, দ্বীন ইসলাম আমাদের কাছে সহজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আপাতত জানা গেছে বুধবার রাতে দ্বীন ইসলাম একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘুমন্ত তিনজনকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে ঘরের পেছনে মাটি খুঁড়ে তাঁদের চাপা দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement