advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

লালমনিরহাট ও হাতীবান্ধা প্রতিনিধি
৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৭:৫৯ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২০ ২১:১৪
পাটগ্রামে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ইনসেটে নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

কোরআন অবমাননার অভিযোগে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক শহীদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। এ সময় তার সঙ্গী একই এলাকার সুলতান যোবাইয়ের আবদার নামে একজন আহত হন।

লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা আজ বলেন, ‘তদন্তে ঘটনার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কেউ কেউ নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ করেছেন।’

গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ সুপার বলেছিলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তিসহ দু’জন পাটগ্রামের বুড়িমাড়ী এলাকায় একটি মসজিদে আসরের নামাজ পড়তে যায়। নামাজের পর তিনি কোরআন শরিফ রাখার জায়গায় পা দিয়ে অবমাননা করেছেন-এমন গুজব ছড়ায়। তখন শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং হত্যার পর মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।’

পুলিশ সুপার তখন আরও বলেছিলেন, ‘এখন স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছে ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্নরকম তথ্য দিচ্ছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

এদিকে ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে র‍্যাবের পক্ষ থেকেও ছায়া তদন্ত করা হচ্ছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন্ত কুমার মোহন্ত বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, পুলিশের ওপর হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের দায়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিনদিনের সময় দিয়ে তিনসদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement
Evaly
advertisement