advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুলিশ পরিদর্শকের নাক ফাটালেন উপপরিদর্শক

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ অক্টোবর ২০২০ ২৩:০৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২০ ১৪:০৭
প্রতীকী ছবি
advertisement

পুলিশ পরিদর্শকের নাক ফাটালেন পুলিশেরই আরেক উপপরিদর্শক (এসআই)। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম শহরের রিয়াজুদ্দিন বাজারের একটি বিপণি বিতানে। তবে শুধু নাকই ফাটাননি ওই উপপরিদর্শক; পরিদর্শককে হাতকড়াও পরান। গত ২৫ অক্টোবর ঘটা এই ঘটনার অভিযোগ আনা হয় চারদিন পর গত বৃহস্পতিবার।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর কোতোয়ালী থানার এসআই রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মারধরের শিকার মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেন। এসআই রবিউল নগরীর কোতয়ালী থানাধীন সি আর বি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসাবে কর্মরত।

এ ঘটনার মূল কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিয়াজুদ্দিন বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত ২২ অক্টোবর বিকালে নগরীর কোতয়ালী থানাধীন কদমতলী-আট্মার্চিং মোড়ে বাস থেকে নামিয়ে তার কাছ থেকে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে। এই ছিনতাই রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্যের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে। 

২২ তারিখ ছিনতাই হলেও নুর মোহাম্মদ ২৪ তারিখ থানায় গিয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলে পূজার ব্যস্ততার জন্য ওসি তাকে আরও একদিন পরে এসে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন এবং এসআই রবিউলকে বিষয়টি দেখতে বলেন। ২৫ অক্টোবর পরিদর্শক আফতাব ও হাসান নামের এক পরিচিত লোককে নিয়ে রিয়াজুদ্দিন বাজারে বাজার করতে যান। একই সময়ে, নুর মোহাম্মদের ছেলে রাসেল ও নুর মোহাম্মদ এস আই রবিউলকে ফোন দিয়ে জানান ছিনতাই যারা করেছেন তাদের পাওয়া গেছে এবং সেই মার্কেট এলাকায় আসতে বলেন । এসআই রবিউল ফোন পেয়ে সাদা পোশাকে থানার এএসআই অনুপসহ একটি টিম নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং পরিদর্শক আফতাবকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই হাতকড়া পরান।

পুলিশ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতকড়া পড়িয়ে টানাটানি শুরু করলে পুলিশ কর্মকর্তা আফতাব তার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন এবং নিজেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দেন। পরিচয় দেওয়া মাত্রই এসআই রবিউল ঘুষি দিয়ে তার নাক ফাটিয়ে দেন এবং হাতকড়ার অন্যপাশ হাসানের হাতে লাগান। পরে তার আইডি কার্ড ও ওয়্যারলেস সেট দেখে হাতকড়া খুলে দেন এবং ঊর্ধ্বতন অফিসারদের আদেশে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ ও তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই সিএমপির ঊর্ধ্বতন অফিসাররা থানায় যান এবং তদন্ত শুরু করেন। রাতভর তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখেন।

ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী নুর মোহাম্মদ পুলিশকে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিনিয়র পুলিশ কর্তারা। নুর মোহাম্মদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তিনি রিয়াজুদ্দিন বাজারের তামাকুমন্ডি লেনের রেজোয়ান মার্কেটে নিউ মোবাইল টাচ নামের একটি দোকান চালান। বড় অংকের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও তিনি বা তার ছেলে এই ঘটনা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির কোনো নেতা বা পার্শ্ববর্তী কোনো দোকানদারকেও জানাননি। পরিদর্শককে মারধরের ঘটনার পর তিনি ২৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা দুই জনকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় একটি ছিনতাইয়ের মামলা করেন।

ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া সাদা পোশাকে অভিযান ও মার্কেটে গিয়ে মারধরের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান। ঘটনা জানতে এসআই রবিউলকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন  ‘আমি স্যারকে চিনতে পারিনি।’ তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়াই কেন তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘ঘটনার পর পরই আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামি। যেহেতু বাদীর অভিযোগ পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই তাই আমরা আফতাবের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় আফতাব সেখানে ছিলেন না।’

এখন পর্যন্ত তদন্ত করার কথা জানিয়ে সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘আমরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাবার পর বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি কিন্তু সেখানে এখন পর্যন্ত ছিনতাই সম্পর্কিত কিছু পাওয়া যায়নি। তবে আমরা এখনো তদন্ত করছি।’

 

advertisement
Evaly
advertisement