advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সম্পত্তির লোভে ঘুমন্ত ভাই ভাবি ভাতিজাকে হত্যা

কটিয়াদী প্রতিনিধি
১ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২০ ০০:০৪
advertisement

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সম্পত্তির লোভে ঘুমন্ত ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে লোহার রড দিয়ে একাই পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের পেছনে মাটিচাপা দিয়েছেন দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ কথা স্বীকার করেছেন। গত বুধবার রাতে এই নৃশংস হত্যাকা- ঘটান দ্বীন ইসলাম। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাটি খুঁড়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানের লাশ উদ্ধার করে। হত্যাকা-ের শিকার ব্যক্তিরা হলেন আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার ও তাদের সাত বছরের সন্তান মো. লিয়ন। তারা উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামশাইট গ্রামের কান্দাপাড়ার বাসিন্দা। তবে হত্যাকা-ের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখচ্ছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আসাদের মা জুমেলা খাতুন ও বোন নাজমা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাদ মিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে। তার বাবা বেঁচে নেই। পেশাগত কারণে আসাদ দীর্ঘদিন ঢাকায় থেকেছেন। কয়েক বছর আগে গ্রামে ফিরে আসেন এবং নিজ এলাকায় একটি প্লাস্টিক পণ্যের দোকান দেন। তার তিন ছেলে। বড় ছেলে তোফাজ্জল মিয়া (১৮) ঢাকায় থাকে। মেজো ছেলে মোফাজ্জল মিয়া (১৬) বাবাকে দোকানের কাজে সহযোগিতা করে।

কয়েক বছর ধরে ছোট ভাই দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আসাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি এই বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। উভয় পক্ষ মারমুখী হয়ে ওঠে। দ্বীন ইসলাম স্থানীয়ভাবে মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলাও রয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাশতা করে আসাদ ও মোফাজ্জল দোকানে যান। রাতে দোকানে দুজনের একজন পালা করে থাকেন। বুধবার রাতে দোকানে থাকে মোফাজ্জল। আসাদ বাড়ি চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে দোকান থেকে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাউকে ঘরে পায়নি মোফাজ্জল। তবে ঘরের মধ্যে রক্তের ছাপ দেখে তার সন্দেহ হয় এবং সে থানায় যায়। পুলিশ এসে বাড়ির পেছনে সামান্য মাটি খুঁড়তেই আসাদ মিয়া এবং তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ বেরিয়ে আসে। লাশ উদ্ধারের সময় দ্বীন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না। পরে পুলিশ গ্রাম থেকেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং তার মা ও বোনকেও নেওয়া হয় থানায়।

মোফাজ্জল জানায়, সম্পত্তি নিয়ে চাচা দ্বীন ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল তাদের। চাওয়ামতো সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া না হলে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন চাচা। বৃহস্পতিবার ঘরে এসে মা-বাবা ও ছোট ভাইকে না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। আর ঘরে রক্তের ছাপ দেখে তার বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, তার মা-বাবা ও ভাই খুন হয়েছেন।

তবে দ্বীন ইসলামের মা ও বোন হত্যাকা-ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে পুলিশকে জানান।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ জলিল বলেন, দ্বীন ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সহজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আপাতত জানা গেছে, বুধবার রাতে দ্বীন ইসলাম একাই হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। ঘুমন্ত তিনজনকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন তিনি। পরে ঘরের পেছনে মাটি খুঁড়ে তাদের চাপা দেওয়া হয়। হত্যাকা-ের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যা মামলা দায়ের : মা-বাবা ও ভাইকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় গতকাল সকালে কটিয়াদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসাদ মিয়ার বড় ছেলে তোফাজ্জল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় কাউকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়নি। তবে ঘটনার বর্ণনায় পরিবারের নয় সদস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন বাদীর চাচা দ্বীন ইসলাম, দাদি কেওয়া খাতুন, ফুপু নাজমা বেগম ও তাসলিমা বেগম, ফুপা ফজলু মিয়া, ফুপাতো ভাই আল আমিন, আজিজুল ইসলাম, মিজান মিয়া ও রায়হান মিয়া।

advertisement
Evaly
advertisement