advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এশিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষে কারা

আমাদের সময় ডেস্ক
১ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২০ ০৮:৪৮
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পই হয়তো একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি বহির্বিশ্বের সমর্থনের অতটা তোয়াক্কা করেন না। তার প্রধান মন্ত্র ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। আর এই নীতি সামনে রেখে গত চার বছর নানা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। পারমাণবিক চুক্তি ও প্যারিস জলাবায়ু চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সরে গেছে। অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মন্তব্য, মুসলিম দেশগুলোর প্রতি বিরূপ মনোভাবসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচিত হয়েছেন ট্রাম্প। ইউরোপের নেতৃবৃন্দকে তিনি দুর্বল মনে করেন, ম্যাক্সিকানদের ধর্ষকদের বলে বর্ণনা করেছেন আর আফ্রিকানদের তেমন গুরুত্বই দেননি তিনি। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছে কয়েকটি দেশ। আর এটার প্রধান কারণ প্রতিপক্ষ চীনকে বাগে রাখা। গতকাল বিবিসি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য নগরী হংকংবাসী ট্রাম্পের বিজয় দেখতে চায়। নগরীটি চীনের অংশ হলেও এটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। কিন্তু গত কয়েক বছরে চীনের সরকার হংকংয়ের ওপর জবরদস্তিমূলক নীতি চাপিয়ে দিয়েছে। এর বিরোধিতা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হংকংয়ের আন্দোলনকারী এরিকা ইউয়েন বিবিসিকে বলেন, ‘চার বছর আগে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হন, তখন আমি ভেবেছিলাম এবার যুক্তরাষ্ট্র পাগল হতে চলেছে। তবে এখন আমার মনে হচ্ছে, হংকংয়ের অন্য অনেক বিক্ষোভকারীর মতো আমিও ট্রাম্পকে সমর্থন করি। কারণ হংকংয়ের জন্য এখন এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন, যিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে পাল্টা আঘাত করতে পারবেন- তিনিই এখন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের একমাত্র আশা।

চীনের জন্য আরেক মাথাব্যথা তাইওয়ানও চায় ট্রাম্পজয়ী হোক। কেননা চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। ১৯৪০ সালের গৃহযুদ্ধে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তাইওয়ান। তারা নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র দাবি করলেও চীন স্বীকৃতি দেয়নি। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে; যেটি একদিন আবার একত্রিত হবে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে। তাইওয়ানের ই-কমার্স কর্মী ভিক্টর লিন বিবিসি কে বলেন, ‘আমাদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ খুব ভালো। তার মতো একজন মিত্র পাওয়া সত্যিই দারুণ। তারা বাইডেনের প্রতি ভরসা পাচ্ছে না।

একই অঞ্চলের আরেক দেশ ভিয়েতনামও ট্রাম্পের পক্ষে রয়েছে। গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই ভিয়েতনামের মাটিতে যুদ্ধ করেছে। অবশ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি এতদিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যুদ্ধের স্মৃতি হয়তো ভুলতে বসেছে। কিন্তু চীন এখনো তাদের জন্য ‘হুমকি’ হয়ে আছে। যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ট্রাম্প ভিয়েতনামকে নিয়ে কিছু বলেননি। এমনকি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনও না। তবে গত চার বছরে ট্রাম্প একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তা হলো- তিনি অন্য দেশের সঙ্গে বিরোধে জড়াতে বা অভিযানের নামে যুদ্ধ শুরু করতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপানও মনে করে ট্রাম্প তাদের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর তার ‘আমেরিকা প্রথম নীতি’ কারণে অনেকেই টোকিও-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ট্রাম্পকেই প্রয়োজন বলে মনে করেন জাপানের বাসিন্দারা। জাপানি নাগরিক ইউকো ইশির বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বন্ধু। জাপানের জন্য তাকে সমর্থন দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা।

advertisement
Evaly
advertisement