advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে ইউজিসি, ব্যবস্থা নিতে ৩০ শিক্ষকের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ নভেম্বর ২০২০ ২১:০৩ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২০ ১৫:৩৬
ইউজিসির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ৩০ জন শিক্ষক
advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কার্যক্রম স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৩০ জন শিক্ষক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আজ মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের (মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিয়ারিং কমিটি) আহ্বায়ক এম মজিবুর রহমানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ৩০ জন শিক্ষক।

প্রসঙ্গ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান প্রশাসনের নানা অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করেছে ইউজিসি। তদন্ত প্রতিবেদনে বর্তমান প্রশাসনের অন্তত ২৫টি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ১১ দফা সুপারিশ করেছেন ইউজিসির তদন্ত কমিটির সদস্যরা। সেই তদন্ত প্রতিবেদন এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।     

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৩৪ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আজকের চিঠিতে স্বাক্ষর করা ৩০ জন শিক্ষকও রয়েছেন।   

ইউজিসির সুপারিশের পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী যে সকল প্রার্থীগণ আবেদনের অযোগ্য ছিল এবং যে সকল বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ৩৪ জন অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং ব্যক্তি স্বার্থ ও ইচ্ছা চরিত্রার্থ করার লক্ষ্যে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নীতিমালায় বয়স শিথিল করে যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেওয়া যেতে পারে।’

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ইউজিসির ‘বিষোদ্গার’ করে যাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ও তার দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া নবীন শিক্ষকরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নানা অভিযোগ নিয়ে এরই মধ্যে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন সদস্য। তারা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই তদন্ত করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের (মেয়াদোত্তীর্ণ স্টিয়ারিং কমিটি) আহ্বায়ক এম মজিবুর রহমানের হাতে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে ৩০ জন শিক্ষক দাবি করেন, ইউজিসি বেআইনিভাবে তদন্ত কমিটি করে তাদের ‘আইনসম্মত’ নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এমন ‘নজিরবিহীন অপতৎপরতা’ ওই ৩০ শিক্ষকের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলছে। ইউজিসির ক্ষমতা বহির্ভূত কার্যকলাপ, একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রচণ্ড মর্যাদাহানিকর এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াসতুল্য। এমন কার্যকলাপ শুধু তাদের নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তথা সমগ্র শিক্ষক সমাজের সম্মানহানির হীন প্রচেষ্টা বলে তারা মনে করছেন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ৩০ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, যথেষ্ট নীতিমালা ও বিধান মেনেই তারা নিয়োগ পেয়েছেন। তাই ‘ত্রুটিপূর্ণ নিক্তিতে’ তাদের যোগ্যতা পরিমাপ না করে এবং ‘ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া’র মতো নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ড জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করে তারা ইউজিসি ও তার সদস্যদেরকে আইন জেনে ও মেনে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নিতে   অনুরোধ করেছেন ওই শিক্ষকরা।

ওই চিঠির শেষে লেখা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নবীন সদস্যবৃন্দ। এরপর একে একে ৩০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর সংবলিত দুটি পৃষ্ঠা সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বাক্ষরের শেষে বলা হয়েছে, ‘সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করায় তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।’

ওই চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে এম মজিবুর রহমান দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘হ্যাঁ চিঠি পেয়েছি, একটি খাম পেয়েছি, এখনো পড়ে দেখেনি। পড়ে বুঝতে পারব, কী বক্তব্য তারা লিখেছে।’ চিঠি এখন পড়ার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নে ওই শিক্ষক বলেন, ‘এই মুহূর্তে তো আমার কাছে নেই।’

এম মজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘আজ কয়েকজন শিক্ষক এসেছিল আমার চেম্বারে। আমার বিভাগের চেম্বারে দেখা করে চিঠিটি দিয়েছে।’ তবে চিঠি দেওয়া ওই শিক্ষকদের নাম বলতে চাননি তিনি।

ওই চিঠির বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কী করণীয় আছে, জানতে চাইলে এম মজিবুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়ে আমার একক কিছু করণীয় নেই। আহ্বায়ক হিসেবে আমাকে দিয়েছে। এটা দলের বিষয়। সেখানে আলোচনা হওয়ার পরই কিছু করা, না করার বিষয়টি আসে।’

ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নবীনতম সদস্যদের এ ধরনের চিঠি দেওয়া মোটেও কাম্য নয় বলে মনে করেন সংগঠনটির সদস্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি ওই তদন্ত করেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সরকারকে চ্যালেঞ্জের সামিল। তিনি আরও জানান, ইউজিসির তদন্ত নিয়ে এর আগে যেভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান, একইভাবে নবীনতম শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।

advertisement
Evaly
advertisement