advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জামালদের সামনে এবার প্রতিশোধের পালা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৬:২৯ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৭:৫৫
ছবি : বাফুফে
advertisement

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর দেশের ফুটবলের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দিয়েই অবসান ঘটেছে অচলায়তনের। মাঝে পাঁচ বছর নেপালের বিপক্ষে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এই প্রীতি ম্যাচের আগে খেলা দুই ম্যাচেই হিমালয়ের দেশটির বিপক্ষে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। এবার জামাল ভুঁইয়াদের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার পালা।

লড়াইটা বাংলাদেশ জানে। আগেও এর প্রমাণ পেয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। প্রধান কোচ জেমি ডে আবারও করোনা পজিটিভ হয়েছেন। গোলরক্ষক রয়েছেন ইনজুরিতে। আর করোনা মহামারির আতঙ্ক তো রয়েছেই। ফিফার গাইডলাইন মেনেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। এদিকে মাঠে দর্শক থাকায় দেশের মানুষের চোখ এখন ফুটবলে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

ইতিমধ্যে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কারণে আজ সফরকারী নেপালের সঙ্গে ড্র করতে পারলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। অপরদিকে প্রথম ম্যাচে হারের কারণে এটি হবে সিরিজ বাঁচানোর জন্য নেপালিদের মরা-বাঁচার লড়াই। আর বাংলাদেশ জিতলেই নেপালিদের বিপক্ষে প্রতিশোধের ষোলোকলা পূর্ণ হবে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল বলেন, ‘আগের ম্যাচে প্রথমার্ধ ভালো ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমি ১০-১৫ মিনিট খেলেছি। প্রথমার্ধ দারুণ ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে কষ্ট করতে হয়েছে। শুধু প্রথমার্ধে ভালো খেললে চলবে না, দুই অর্ধেকই ভালো খেলতে হবে। এই ম্যাচে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দল কেমন খেলেছে। সে হিসেবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। জেমি থাকুক আর না থাকুক, আমাদের মনোযোগ একই থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেমি বা স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস যে-ই থাকুন, খেলার নির্দেশনা ও ট্যাকটিক্যাল ব্যাপারগুলো একই। জেমি না থাকলেও বড় সমস্যা হবে না। জেমি এরই মধ্যে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আবেদন করেছে। আমাদেরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা প্রয়োজন।’

সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। এরপর গোটা এক যুগের বেশি সময় পার হলেও আর কোনো শিরোপার দেখা পায়নি তারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যেমন আর কোনো শিরোপা পায়নি তেমনি জয় করতে পারেনি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপাও। সর্বশেষ হোম ভেন্যুতে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই নেপালিদের কাছেই শিরোপা খুইয়েছে বাংলাদেশ।

একই বছর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে বুরুন্ডির কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেয় লাল সবুজের দল। এটি ঠিক যে সাফ টুর্নামেন্ট কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনেক বেশি মর্যাদার। তবে ফিফা প্রীতি ম্যাচের এই সিরিজকেও খুব বেশি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দুই ম্যাচের এই সিরিজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যে কারণে এ সিরিজের নামকরণ হয়েছে ‘মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ সিরিজ’। ফলে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে জামাল ভুঁইয়ার দল।

প্রথম ম্যাচের প্রত্যাশিত জয়টি বাংলাদেশ দলের মানসিক দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই জয় পরের ম্যাচে আরও ভালো ফুটবল খেলার জন্য দলকে অনুপ্রাণিত করবে। শুধু তাই নয়, এই জয় শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আসন্ন ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে লড়াই করার মানসিকতা বাড়িয়ে দেবে।

advertisement
Evaly
advertisement