advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইমামের কাছে গিয়ে জঙ্গি হয় নাঈম ও কিরণ

সিরাজগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা

সাঁথিয়া প্রতিনিধি
২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০৯:২৩
নাঈমুল ইসলাম ও কিরণ হোসেন। পুরোনো ছবি
advertisement

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের দাড়ামুদা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। আর কিরণ হোসেন হামিম ওরফে শামীম একই গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। ছিলেন একই ক্লাসের ছাত্র। এসএসসি পাস করেন একই সালে। বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। নাটোর থেকে আসা গ্রামের একটি মসজিদের ইমামের সান্নিধ্যে আসার পর পাল্টে যেতে থাকে তাদের চিন্তাচেতনা। ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন তারা।

গত শুক্রবার শাহজাদপুরে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আত্মসমর্পণ করা চারজনের মধ্যে তারা দুজনও রয়েছেন। ঘটনার পর যেন হোঁচট খান এলাকাবাসী ও স্বজনরা। ধার্মিক ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত ছেলে দুটি এভাবে বিপথগামী হয়ে গেলেন!

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, নাঈম ও কিরণ দুজনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নাঈমের বাবা ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। কিরণের মা দর্জির কাজ করেন এবং বাবা ছোট একটি মনোহারী দোকান চালান। এলাকাবাসী জানান, ২০১৭ সালে নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে আসা স্থানীয় মসজিদের ইমাম জুয়েল রানার সান্নিধ্যে আসেন নাঈম ও কিরণ। তারা অল্প সময়ে ওই ইমামের ভক্ত হয়ে যান। পরে নামাজের মাযহাব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে ওই ইমামকে মসজিদ থেকে সরিয়ে দেন এলাকাবাসী। তবে চাকরি চলে যাওয়ার পরও বারবার দাড়ামুদা গ্রামের একটি বাড়িতে আসতেন তিনি।

কিরণের বাবা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই নাঈমের সঙ্গে চলাফেরা করত। ২-৩ মাস আগে চাকরির কথা বলে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে বাড়ি থেকে দুজন একসঙ্গে বের হয়। তারা একটি জুটমিলে চাকরি করে বলে বাড়িতে জানিয়েছিল। গত ১২ নভেম্বর বাড়িতে এসে দুদিন পর চলে যায়। গত শুক্রবার লোকমুখে শুনতে পাই আমার ছেলে জঙ্গি। তাকে আটক করেছে পুলিশ।

সাঁথিয়ার দাড়ামুদা খোয়াজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিরাজউদ্দৌলা জানান, নাঈম ও কিরণ দুজনই তার প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তারা এলাকায় এলে বিভিন্ন ছেলে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করত। এলাকার অন্য ছেলেদের বিষয়ে এখন আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি।

নন্দনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিটন জানান, বছর দুয়েক আগে নাটোর থেকে এক হুজুর এসেছিলেন। ওই দুজনই তার মুরিদ হন। ওই ইমামই ব্রেনওয়াশ করে তাদের ভিন্ন পথে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওই দুজন সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিয়েছি। তাদের নামে থানায় কোনো মামলা নেই।

advertisement
Evaly
advertisement