advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্থপাচার বন্ধে নতুন উদ্যোগ

পরোক্ষ কর আদায়ের চিন্তা

আবু আলী
২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০৮:৫৪
advertisement

অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের ঘটনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিবছর বাংলাদেশের যে বাণিজ্য (আমদানি-রপ্তানি) হচ্ছে, এর ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থই বিদেশে পাচার হচ্ছে, যা মোট পাচারের ৮০ শতাংশ। ওভার ইনভয়েসিং (আমদানিতে মূল্য বেশি দেখানো) এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের (রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো) মাধ্যমে এসব অর্থ পাচার হয়।

সূত্র জানিয়েছে, অর্থপাচার বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে পাচার করা অর্থের প্রত্যক্ষ করের পাশাপাশি পরোক্ষ কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য কাস্টমস ও ভ্যাট আইন সংশোধনসহ বিদেশি রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে পাচার করা অর্থের ওপর জরিমানাসহ আয়কর আদায়ের বিধান রয়েছে। পাচার অর্থ বা সম্পদের ওপর ট্যাক্স রিকভারি বা কর আদায়ের কর্মকৌশল নিয়ে ইতোমধ্যে দুদক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিআইডি, এনবিআর ও শুল্ক গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের পর পাচার করা অর্থের ওপর প্রত্যক্ষ কর বা আয়করের পাশাপাশি পরোক্ষ কর (শুল্ক ও ভ্যাট) আদায়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা।

চিঠিতে বলা হয়, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরোক্ষ কর ফাঁকির মাধ্যমে অর্থপাচার করেছে, তা ফেরত আনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক ও ভ্যাট আদায় করা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত, তাদের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয় প্রদর্শন না করে অর্থপাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এনবিআরের তদন্তাধীন অধিকাংশ মামলাই শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ। মূলত আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকে। এগুলোর বিপরীতে ভ্যাট বা শুল্ক কিংবা দুটোই ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তা ফেরত আনার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের কাস্টমস বিভাগের সঙ্গে এনবিআর পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি করে থাকে। এসব চুক্তিতে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থের ওপর পরোক্ষ কর আদায়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে অনুরূপভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যম পাচার করা অর্থের ওপর ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত চলতি অর্থবছরের বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে পাচার করা অর্থের ওপর কর আদায়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো করদাতার দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে আমদানি-রপ্তানি প্রদর্শন করলে গৃহীত বা পরিশোধিত অর্থের সঙ্গে প্রকৃত লেনদেনের পার্থক্য থাকলে ওই পার্থক্যের ওপর ৫০ শতাংশ কর আদায় করা হবে। একইভাবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিবরণীতে প্রদর্শিত ও প্রকৃত বিনিয়োগের পার্থক্য থাকলে তার ওপর ৫০ শতাংশ কর আদায় করা হবে।

প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, বাণিজ্যের আড়ালে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং মাধ্যমে ৮০ শতাংশ অর্থপাচার হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিবছর বাংলাদেশের যে বাণিজ্য (আমদানি-রপ্তানি) হচ্ছে, তার ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থই বিদেশে পাচার হচ্ছে। দেশ থেকে যেসব টাকা পাচার হয়, তার বড় অংশই যায় উন্নত ৩৬ দেশে। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৪৬০ কোটি ডলার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, করোনায় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ অবস্থার উত্তরণে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধসহ আর্থিক খাতের অপরাধ যাতে বন্ধ হয়, সেই পদক্ষেপ জরুরি। শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। কেননা আগে যেভাবে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে, ওইভাবে শিল্পায়ন হয়নি। পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকা পাচার বন্ধে ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়াতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement