advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিদিন ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে গ্রিডে শ্রীকাইলে নতুন কূপ

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর
২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:১১
advertisement

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল-২ (মকলিশপুর) গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপ থেকে দৈনিক আরও প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি ঘনফুট) গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব বলে জানা গেছে। এ গ্যাসক্ষেত্রের ৪ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক সাত-আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। বাপেক্স নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫৬ দিন পর ওই কূপের নতুন স্তর থেকে শুক্রবার দুপুরে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা (ওয়াকওভার) শুরু করে। এর পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী প্রচ- শব্দে গ্যাস উত্তোলনের শব্দ শুনতে পাচ্ছে, আগুনের শিখাও দেখছে। পরীক্ষা শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘ওয়াকওভার’ কাজ শেষ হলে এ সপ্তাহের যে কোনো দিন থেকে জাতীয় গ্রিডে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রীকাইল-২ গ্যাসক্ষেত্রটি ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসে উদ্বোধন করেন। এর পর ওই বছরের জুন থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে এ পর্যন্ত মোট তিনটি কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কূপটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশি প্রযুক্তিতে বাপেক্স খনন করে গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রীকাইল-২ গ্যাসক্ষেত্রের ৪ নম্বর কূপটির ওপরের স্তর থেকে আগেই সাত-আট মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস দৈনিক উত্তোলন করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন নতুন করে আরও গভীরে নতুন স্তর থেকে একই কূপ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

গ্যাসক্ষেত্রের প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, এই কূপের নিচের স্তরে কী পরিমাণ গ্যাস থাকতে পারে, তা নিশ্চিত হতে ৫৫ দিন ধরে কাজ করেছে বাপেক্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন গ্যাসস্তরে ৩০-৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনো বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে। নতুন কূপের এই গ্যাস এলএনজি খাতে ব্যবহার করা গেলে দেশের রাজস্ব আয় সমৃদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে শ্রীকাইল অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের (সোনাকান্দা, মোহাম্মদপুর, ঘোড়াশাল) স্থানে ১ নম্বর কূপ খনন করা হলেও অজানা কারণে এ কূপ থেকে আর গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ১ নম্বর কূপের গ্যাসক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত রয়েছে। পরে ২০১৩ সালে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের মকলিশপুরে শ্রীকাইল-২ গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। ২০২০ সালের শুরুর দিকে পার্শ্ববর্তী নবীনগর উপজেলার (হাজীপুর, লাউর ফতেহপুর) শ্রীকাইল ইস্ট রূপকল্প-১ নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলনকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংযোগ লাইন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গ্যাসলাইন নতুন সংযোজন করলেই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে শ্রীকাইল পূর্ব গ্যাসক্ষেত্রটি সংযুক্ত হবে। এ ছাড়া শ্রীকাইল সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে তিন বছর আগে বাপেক্সের অনুসন্ধানে একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ইতোমধ্যে এই কূপের চারপাশে বালি দিয়ে ভরাট করা ও সংযোগ সড়কের কাজ চলছে।

‘আমাদের গ্যাস আমাদের অধিকার’ শীর্ষক সংগঠনের নেতা সাংবাদিক এমকেআই জাবেদ বলেন, গ্যাস আমাদের এলাকা থেকে উত্তোলিত হচ্ছে এবং কৃষিজমির নিচ ও এলাকার ওপর দিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ আমরা অবহেলার শিকার হচ্ছি। আমাদের গ্যাস সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে তা যেমন গর্বের, তেমনি আমাদের গ্যাস আমাদের ভোগ করার ন্যায্য অধিকারও রয়েছে। যদি এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস প্রদান করা হয়, তা হলে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ হলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

advertisement
Evaly
advertisement