advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সন্তানহারা মায়ের কান্না

বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়

গাজীপুর সদর প্রতিনিধি
২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:১২
advertisement

সহায়সম্বল বলতে আছে একটি মাটির ঘর। সেখানেই চার ছেলে ও প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বসবাস কুলসুম বেগমের। স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে কুলসুম বেগম মাঠে কাজ করলেও ছোট ছেলে সাদিকুল ইসলাম শিবলুকে লেখাপড়া করাচ্ছিল পরিবারটি। তাকে নিয়েই ছিল সবার আশা। লেখাপড়া করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাবেÑ এমন স্বপ্নও সবার মধ্যে তৈরি হয়েছিল।

হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিবলু (১৪) সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণির গ-িতে পা রেখেছিল। করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কাজ নিয়েছিলেন পাশের এক বাড়িতে। সেখান থেকেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়। সেদিন রাতেই ওই বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরই বাড়ির লোকজন গাঢাকা দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

বিদ্যুৎস্পর্শে শিবলু মারা গেছে বলে থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। তবে প্রথম থেকেই তার পরিবারের অভিযোগ ছিল, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। ঘটনার পরই কয়েকজনকে অভিযুুক্ত করে তার পরিবার শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা হিসেবে রুজু করেনি। পরে গাজীপুর আদালতে মামলা করেন কুলসুম বেগম।

শিবলু গাজীপুরের শ্রীপুরের টেংরা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে এবং স্থানীয় টেংরা নসর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন টেংরা গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের মেয়ে রওশন আরা, আবদুর রশিদের ছেলে সোহেল মিয়া, রহি মিয়ার স্ত্রী ও সাবেক ওয়ার্ড সদস্য রুনা, সাহাব উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন।

কুলসুমের ভাষ্যÑ তারা হতদরিদ্র। পরিবারের ছোট ওই ছেলেকে নিয়েই স্বপ্ন ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন। করোনার কারণে লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। এই সুযোগে স্থানীয় রওশন আরা শিপলুকে ফুঁসলিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে কাজ করাতেন। এতে কয়েক হাজার টাকাও বকেয়া পড়ে যায়। ঘটনার দিন সকালে বাড়ির সামনে দোকানি সোহেলের মাধ্যমে তার ছেলেকে পাওনা টাকা দেবে বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান রওশন আরা। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও শিবলু বাড়ি ফিরে না আসায় তারা রওশন আরার বাড়িতে খোঁজ করতে যান। এ সময় রওশন আরা জানান, শিবলু তাদের বাড়িতে নেই। সারাদিন খুঁজে কোথাও না পেয়ে রাতে জানতে পারেন শিবলুর লাশ রওশন আরার বাড়িতে পড়ে রয়েছে। এর আগেই গাঢাকা দেন অভিযুক্তরা। তিনি জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। রওশন আরা স্থানীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী। মাঝে মধ্যেই তার বাড়িতে মাদকের আসর বসত। তার ছেলে কিছুদিন ধরে ওই বাড়িতে কাজ করায় সে অভিযুক্তদের নানা অপরাধ কর্মকা- দেখতে পেয়ে তাকেও কয়েকবার বলেছিল। তার ধারণা, সেদিন অভিযুক্তদের অপরাধমূলক কিছু দেখে ফেলায় হয়তো তারা শিবলুকে হত্যা করে বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দিয়েছে। বাড়ির মূল ফটকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থাকলেও অভিযুক্তরা তার ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পর্যন্ত নেয়নি। এমনকি তার ছেলের লাশ যখন উদ্ধার করা হয়, তখন গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল।

কুলসুমের অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি কারও কোনো সহযোগিতা পাননি। থানায় মামলা করতে অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে ৮ নভেম্বর তিনি গাজীপুর আদালতে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গাঢাকা দিলেও মামলা করার পর তারা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি অভিযুক্তরা অজ্ঞাত স্থান থেকে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। চোখের সামনে ছেলেকে হারানোর মধ্য দিয়ে বুকে পাথর চেপেছে কুলসুমের। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় অসম লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। ছেলে হারানোর বিচার না পাওয়া নিয়ে তার সংশয় বাড়াচ্ছে এখন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তরা গাঢাকা দেওয়া ও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কিশোরের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শকের কথা বলা হয়েছে। ওই অনুযায়ী থানায় অপমত্যুর মামলা হয়েছে। কিশোরের পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা রুজু না হওয়ার তথ্য সঠিক নয়।

বিচার দাবিতে মানববন্ধন : কিশোর শিবলুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলে বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা। ১৯ নভেম্বর দুপুরে শ্রীপুর টেংরা গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র্রের সামনে এ মানবববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয়রা অসহায় পরিবারটির পাশে থেকে বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবি জানায়।

advertisement
Evaly
advertisement