advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সংস্কারকাজ চলছে কার্পেটিংও উঠছে

বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজার থেকে তক্তারপুল সড়ক

সামিয়ান হাসান,বিয়ানীবাজার (সিলেট)
২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ০৯:২০
advertisement

বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজার-তক্তারপুল সড়কের সংস্কারকাজ এখনো চলছে। আর এরই মধ্যে উঠে যাচ্ছে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে করা ওই রাস্তার কার্পেটিং। সাড়ে ছয় কিলোমিটার সংস্কারাধীন এ সড়কটির প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার কাজ শেষ হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। তবে এসব অনিয়ম ছাড়াও এ রাস্তায় নতুন করে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। নতুন কার্পেটিং করা এই সড়কে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বড় ট্রাক চলাচল করায় সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের সপ্তাহখানেকের মাথায় উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী ও দেউলগ্রাম এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। তা ছাড়া গত বুধবার ভোরবেলা নির্মাণসামগ্রী বহনকারী কয়েকটি বড় ট্রাক চলাচল করায় সড়কের গোবিন্দশ্রী এলাকায় নতুন কার্পেটিং করা একটি অংশ ধসে গেছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তারা জানান, সড়কের নতুন করা কার্পেটিং হাত দিয়েই উঠিয়ে ফেলা যাচ্ছে। রাস্তার কার্পেটিং করার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ঠিকাদার সাত টনের ছয়-সাতটি মালবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করান। এতে একটি পাথরবাহী ট্রাক ওভারলোড হওয়ায় সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণেই রাস্তার এমন চিত্র।

উপজেলা প্রকৌশল অফিসসূত্রে জানা গেছে, সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফিডার রোডের বিয়ানীবাজার অংশের বৈরাগীবাজার-তক্তারপুল সড়কের প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। সংস্কারাধীন এই রাস্তার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে জহিরুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজ।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে আবারও কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেটি মেনে নেননি স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা সঠিক নিয়মে এবং ভালো মান বজায় রেখে যাতে সংস্কারকাজটি সম্পন্ন করা হয়, সে জন্য এলজিইডির ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে দেউলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রুমন বলেন, প্রথমে কাজটি দেখেই মনে হয় নিম্নমানের হচ্ছে। হাত দিয়ে টান দিলেই পিচের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। তা ছাড়া অটোরিকশা চলাচল উপযোগী এ সড়ক দিয়ে বড় বড় ট্রাক চলাচল করার কারণে সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে।

অটোরিকশাচালক ময়নুল ইসলাম বলেন, পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হওয়ার পরই দেখছি শ্রমিকরা এখানে নিম্নমানের কাজ করছেন। পিচ ঢালাইয়ের আগে রাস্তাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। তা ছাড়া ঢালাইয়ে পাথর, বিটুমিনসহ যাবতীয় মালামাল ঠিকভাবে না দেওয়ায় পিচ উঠে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। কাজের অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে। কাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তবে ঠিকাদারের ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, নতুন কার্পেটিং করা রাস্তা দিয়ে মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করানো ঠিক হয়নি। আমি এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটি পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু সঠিকভাবে পুনরায় সংস্কার করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি।

advertisement