advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে : জঙ্গিদের তৎপরতা চলমান

২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ১৪:১০
advertisement

আঁচ করা যাচ্ছিল যে, করোনা মহামারীর ডামাডোলের মধ্যে গোপনে জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের ভবিষ্যৎ তৎপরতা নিয়ে পরিকল্পনা আঁটবে এবং যে কোনো সময় মারাত্মক হামলা চালাতে পারে। এই ধারণাই সত্য প্রমাণিত হলো রাজশাহীতে মাসিক সভা চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একজন নেতাসহ চারজন কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার মাধ্যমে। উপরন্তু তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার উকিলপাড়ায় জঙ্গি আক্রমণের জন্য প্রস্তুতিরত নব্য জেএমবির একটি দলকে বোমা ও মারণাস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বছর কয়েক ধরে ক্রমাগত অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিল। তাতে এদের অনেক ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন হয়েছে, নেতা ও কর্মী হয় মারা পড়েছে নয়তো গ্রেপ্তার হয়েছে। এর ফলে বেশ কিছুদিনের জন্য দেশে জঙ্গি তৎপরতার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার জঙ্গি ও মাদক এ দুটি বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বজায় রেখে চলেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতিতে আশানুরূপ সাফল্য পাওয়া না গেলেও জঙ্গিদের ব্যাপারে সাফল্য বেশ সন্তোষজনক। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের এই ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো, বিদেশে বেশ কিছু বাংলাদেশি আইএস বা ইসলামিক স্টেট নামের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

কিছু তরুণ দেশ থেকে পালিয়ে এদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অতিসম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একাধিক বাংলাদেশি তরুণ জঙ্গি সম্পৃক্ততার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে বিচারাধীন রয়েছে। আবার তাদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এ দেশীয় নাগরিকরা অভিযুক্ত ও বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে। এমন ঘটনা যুক্তরাজ্য, ভারতসহ আরও কোনো কোনো দেশেও রয়েছে। এদের জঙ্গি আদর্শের প্রেরণা ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক বিদেশে হলেও দেশেও অনেকের সম্পর্ক গভীর। তারা অর্থ ও নিরাপত্তার জন্য বারবার দেশেও ফিরে আসে। অনেকে এখানেও তৎপরতা চালায়- কখনো জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়, কখনো বা সদস্য সংগ্রহ করে, আবার কখনো আত্মগোপনের আস্তানায় থেকে সংগঠনের কাজ করে।

এ কথা অনস্বীকার্য, দেশে আইএস, জেএমবি ও এ ধরনের জঙ্গি সংগঠনের প্রতি আদর্শিকভাবে সহানুভূতিশীল মানুষ যথেষ্ট রয়েছে। অনেকে অর্থ ও অন্যান্যভাবে সহায়তা দিয়ে থাকে বলেই আমাদের বিশ্বাস। দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এদের এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া জরুরি। সবাইকে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ কাউন্সেলিং জরুরি। এ ব্যাপারে অগ্রসর চিন্তার আলেমদের ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারকেও এসব প্রয়াসে যুক্ত থাকতে হবে।

 

advertisement
Evaly
advertisement