advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমাদের মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি রাখুন : ইউরোপে করোনা

২২ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ১৪:১২
advertisement

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে গত মাস থেকেই আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বে ইতোমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হচ্ছে ইউরোপ। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ইউরোপে গত সপ্তাহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুজ বলেন, এর অর্থ হলো প্রতি ১৭ সেকেন্ডে একজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে।

আমাদের দেশেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যে বেড়েছে তা করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিসংখ্যান থেকে সুস্পষ্টভাবে সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে করোনা বাড়তে না পারে সেজন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে প্রবেশের জায়গাগুলোতে স্ক্রিনিং অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিন কোটি ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা, কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমস্যা হলো জনসাধারণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জ্বর, গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও অধিকাংশ রোগী করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফেও পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে, কিন্তু আমাদের দেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। কিন্তু অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাস আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যের জন্য এখনো আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি ইতোমধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। শীতকালে এর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত জনসচেতনতায় প্রচার বাড়ানো, পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি রাখা।

advertisement
Evaly
advertisement