advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানে ঘুষ, প্রতিবাদে যুবক খুন

এম. সুরুজ্জামান,নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
২২ নভেম্বর ২০২০ ১৮:২৯ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০ ১৮:৫৪
সুজন মিয়া
advertisement

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ঘুষ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় মারধর ও কোপানোয় গুরুতর আঘাত পাওয়া যুবক সুজন মিয়ার (৩০) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল জলিল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল প্রায় দুই বছর আগে কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল হালিমের (২৩) কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ভাতার কার্ড করে দেন। কয়েক দফায় ভাতা উত্তোলনের পর সম্প্রতি স্মার্ট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র কোনোটিই না থাকায় অনলাইনে নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন হালিম। যে কারণে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে দেন তিনি।

গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আব্দুল জলিল সুজন মিয়ার দোকানে এলে তিনি ঘুষের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন ইউপি সদস্য। তিনি নিজের বাড়ি থেকে ভাই-ছেলেদের ডেকে এনে সুজনের ওপর হামলা করেন। তাকে ব্যাপক মারধর ও কোপানো হয়। এ সময় ফেরাতে এসে সুজনের ছোট ভাই গ্রাম পুলিশ সুমন, সুমনের স্ত্রী উর্মি, মা ফরিদা ইয়াসমিন, ছোট ভাই রাজুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সুজনের দোকানের আসবাবপত্র ও মালপত্র তছনছ করে ভেঙে ফেলা হয়। গুরুতর আহত সুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিতে চাইলে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদের উপর চড়াও হয় এবং হুমকি দেয়।

পরে গুরুতর আহত সুজনকে প্রথমে নালিতাবাড়ী, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকার সলিমুল­াহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সুজনের মাথায় অস্ত্রপাচারের পর ঔষধপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি আসার পর আবার সুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আবারও অপারেশন করে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে, হামলার ঘটনায় সুজনের পক্ষে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হলে ইউপি সদস্যের পক্ষের দুইজন আদালত থেকে জামিনে বের হন। পলাতক আছেন ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল বলেন, ‘সুজনের আগের মামলাটি ৩০২ ধারায় হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। আমরা প্রধান আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তারসহ দ্রুতই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

advertisement
Evaly
advertisement