advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জীবন ও জীবিকার শিক্ষা পাঠ্যবইয়ে

এম এইচ রবিন
২৮ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

আগামী প্রজন্মকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে ‘জীবন ও জীবিকা’ নামে নতুন একটি বিষয়। এটির পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীই কোনো একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারে। স্থানীয় চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর নিজ নিজ এলাকায় উপার্জনসংশ্লিষ্ট কাজে অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এমনকি উদ্যোক্তা হিসেবে ছোটখাটো বিনিয়োগের অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবে নতুন যুক্ত হওয়া ‘জীবন ও জীবিকা’ বিষয়টি শিখনের মাধ্যমে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু পর দেশে অনেকেরই আর্থিক দুরবস্থা দেখা দেয়। কর্মহীন হয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে বারবার ঘুরেফিরে আসে মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি। এই বৈশ্বিক মহামারীকালে কীভাবে জীবন ও জীবিকা টিকিয়ে

রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়, এ বিষয়টি সব শ্রেণির মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। টিকে থাকার লড়াইয়ে এ সময় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা’ প্রণয়নকালে করোনা মহামারীর এই পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়। এর পর পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় ‘জীবন ও জীবিকা’ যুক্ত করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনসিটিবি প্রস্তাবিত ওই রূপরেখার ২.৮ অনুচ্ছেদে শিক্ষাক্রমের ১০টি মূল যোগ্যতা অর্জনে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের শিখনের ১০টি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১. ভাষা ও যোগাযোগ, ২. গণিত ও যুক্তি, ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৫. পরিবেশ ও জলবায়ু, ৬. সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, ৭. জীবন ও জীবিকা, ৮. মূল্যবোধ ও নৈতিকতা, ৯. শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা এবং ১০. শিল্প ও সংস্কৃতি।

এ বিষয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, এ বিষয় নির্বাচনের সময় স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চাহিদা ও প্রেক্ষাপট যেমন বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে একাডেমিক অগ্রাধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং কর্মজগতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিপ্রেক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীর বিকাশের ক্ষেত্র, পূর্বে নির্ধারিত নীতি, মূল্যবোধ, মূল যোগ্যতা ও দক্ষতা, পরিস্থিতি বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় প্রাপ্ত ফল এবং জাতীয় পর্যালোচনাগুলোর ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ শিখন বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে শিখন-ক্ষেত্র নির্বাচন করা হয়েছে।

নতুন বিষয় ‘জীবন ও জীবিকা’ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছি। মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, বিগডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানো টেকনোলোজি, থ্রি-ডি প্রিন্টার, জেনেটিক্সসহ একুশ শতকের আরও অনেক প্রযুক্তি বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে এ প্রযুক্তিগুলো পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে এমনভাবে দ্রুতগতিতে বিকশিত হচ্ছে, যা পুরো বিশ্বব্যবস্থাকেই নতুন করে বিন্যস্ত করছে।

তিনি বলেন, একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে শিশুরা আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়, তাদের ৬৫ শতাংশ কর্মজগতে প্রবেশ করবে এমন একটি কাজ বা চাকরি নিয়ে, যে কাজের বা চাকরির অস্তিত্বই বর্তমানে নেই। এ রকম দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অজানা বিশ্বকে বিবেচনা করে আজকের শিক্ষার্থীদের তাদের কর্মজগতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের নিমিত্তে ‘জীবন ও জীবিকা’ বিষয় প্রবর্তন করা হয়েছে।

পাঠ্যক্রমের নতুন রূপরেখা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ বলেন, সময়ের প্রয়োজনে বৈশ্বিক চাহিদার ভিত্তিতে কারিকুলাম পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যে কারিকুলাম এতদিন চর্চা করছি- এ প্রথাগত বিদ্যায় তো বেকারত্ব বাড়ছে। পড়ালেখার সঙ্গে যদি বাস্তব দক্ষতা অর্জন হয়, সেটাই প্রকৃত শিক্ষা। আশা করা যায়, ‘জীবন ও জীবিকা’ বিষয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রবণতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করে তুলবে। তা কাজে লাগিয়ে আগামীতে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উদ্ভূত যে কোনো ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেকে দক্ষ করে তুলবে।

জানা গেছে, পাঠ্যক্রম রূপরেখার ২.১২ অনুচ্ছেদে ‘জীবন ও জীবিকা’ বিষয়ে চারটি সূচকে দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১. আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মোন্নয়ন : আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজের আগ্রহ, পছন্দ-অপছন্দ, ভালোলাগা-মন্দলাগা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারা। নিজের দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানা এবং তার উত্তরোত্তর উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া। আত্মসম্মানবোধের উন্মেষ ঘটানো- যার মাধ্যমে নিজ, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়া; নিজের কাজ, পরিবারের কাজ, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হতে পারা।

২. ক্যারিয়ার প্ল্যানিং : নিজের আগ্রহ, ঝোঁক, দক্ষতা বিবেচনা করে পরিবর্তশীল বিশ্বে শ্রমবাজারের ওপর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব বিশ্লেষণ করে পারিবারিক সক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর কর্মজীবন পরিকল্পনা করতে পারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও অজানা ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে যাতে যে কোনো পরিস্থিতিতে তা পরিমার্জন বা পরিবর্তন বা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। ৩. পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা : প্রি-ভোকেশনাল-২ এবং এসএসসি ভোকেশনালের আংশিক দক্ষতা অর্জন করা। ৪. ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা : বিশ্বায়ন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডেমোগ্রাফিক রূপান্তরের ধারার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি মুহূর্তে বৈশ্বিক পরিবর্তনের চলমান প্রক্রিয়ায় অজানা পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো এবং নতুন যুগের সম্পূর্ণ নতুন পেশা/কাজ করার জন্য একুশ শতকের দক্ষতাগুলো বিশেষত সূক্ষ্ম চিন্তন দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কোলাবরেশন বা দলে কাজ করার দক্ষতা, সৃজনশীল দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

advertisement
Evaly
advertisement