advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তিনি প্রাধান্য দিতেন দেশের নিসর্গকে

আতাউর রহমান
২৮ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী যাকের ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র তখন একটি ইংরেজি সার্ভিস চালু করে। সেখানেই কাজ শুরু করেন তিনি। প্রচার চালিয়ে হয়ে ওঠেন শব্দসংগ্রামী। সে সময়ে তার পরিচয় হয় মামুনুর রশীদের সঙ্গে। এর পর ১৯৭২ সালে আলী যাকের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। এ নাটকের প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে। এর পর আমার সাথে তার পরিচয় হয়। আলী যাকের মুক্তধারার নাটক দেখতে আসতেন। জিয়া হায়দার তখন প্রেসিডেন্ট আমি সাধারণ সম্পাদক। যাকেরকে বলিÑ আপনি আমাদের দলে যোগ দেন না কেন? ১৯৭২ সালের জুন মাসের দিকে আমার এবং জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেন তিনি। সে সময় আমার নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আলী যাকের। এক বছর পর তিনি প্রথমবারের মতো নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকটিতে, যা ছিল

বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনী।

আলী যাকের প্রথম উদ্যোগতা, দর্শনীর বিনিময়ে আমরা নাটক করি। আমরা তাতে সহযোগিতা করলাম। দুই টাকা পাঁচ টাকা যাই টিকিটের দাম হোক। আগে তো দুইটা-তিনটা শো করে আমরা নাটকের মঞ্চায়ন বন্ধ করে দিতাম। বাংলাদেশে তাই ছিল প্রচলন। তিনি বলেনÑ একটি নাটক পঞ্চাশটা শো হতে পারে, একশ শো হতে পারে। আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলে আটটা কী দশটা শো করে চলে আসতাম মহিলা সমিতিতে। পাশাপাশি পদাতিক, ঢাকা থিয়েটারও তখন নাটক মঞ্চায়ন শুরু করে।

আলী যাকের অভিনয়ে যেমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন (‘ম্যাকবেথ’, ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’, ‘গ্যালিলিও’ ও ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ নাটকগুলো মানুষের মনে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে) পাশাপাশি নির্দেশনায়ও অনেক ভালো করেছেন। যেমন ‘বাকি ইতিহাস’-এর নির্দেশনা তিনি ভালো দিয়েছেন, মানুষ যা মনে রাখবে। তিনি ঠাট্টা-তামাসার নাটক নির্দেশনা দিতে ভালোবাসতেন। এমন বহু নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিনয় ও নির্দেশনায় তিনি সমানভাবে পারদর্শী ছিলেন।

পরে তিনি নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সভাপতি হন এবং দীর্ঘসময় নাগরিকের পথ চলাটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। মৃত্যু পর্যন্ত আলী যাকের ওই নাট্যদলের সভাপতি ছিলেন। দেশকে তিনি ভীষণ ভালোবাসতেন। পৃথিবী ঘোরা মানুষ হয়েও তিনি গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়াতেন। দেশের নিসর্গকে তিনি প্রাধান্য দিতেন। সে জন্য তিনি গ্রামে বাড়ি করেছেন।

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক ছিলেন আলী যাকের। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে তিনি প্রধান মনে করতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেও প্রধান মনে করতেন। বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন, বিজ্ঞাপনী খাতের অনন্য হয়ে উঠেছিলেন আলী যাকের। তার পরও তিনি মনেপ্রাণে একজন নাট্য ও শিল্পপ্রাণ মানুষ ছিলেন। বই পড়াসহ বহুগুণের মানুষ ছিলেন। এক সময় প্রায় প্রতিদিন আমাদের আড্ডা হতো। কখনো কখনো সারারাত আড্ডা দিতাম। আড্ডার বিষয় ছিল নাটক, সিনেমা ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা দিক। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। পরিবারলগ্ন, বন্ধুলগ্ন সবাইকে নিয়ে সুখে-দুঃখে এগিয়ে যেতেন। শেষদিন পর্যন্ত তিনি নাটকের সঙ্গে ছিলেন। এমন নাটক অন্তপ্রাণ মানুষের জন্য রইল অঢেল ভালোবাসা।

advertisement
Evaly
advertisement