advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে নতুন কর্মকৌশল

আবু আলী
২৯ নভেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১০:১০
advertisement

বৈশ্বিক মহামারী করোনা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে ওই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২১টি প্যাকেজেn মোট ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি অর্থ ছাড় হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় নতুন কর্মকৌশল ঠিক করতে সিরিজ সংলাপ শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে সরকারকে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঘোষিত এসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হার ত্বরান্বিত করতে অংশীজনদের সঙ্গে তিন পর্বের সিরিজ সংলাপের আয়োজন করেছে সরকার। প্রথম পর্বের সংলাপ গত বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। দ্বিতীয় মতবিনিময় সভা হবে একই স্থানে ৩ ডিসেম্বর।

সভার প্রতিপাদ্য কর্মসৃজন ও গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সর্বশেষ একই স্থানে তৃতীয় মতবিনিময় সভাটি হবে ১০ ডিসেম্বর। সভার প্রতিপাদ্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ঘোষিত ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের দ্রুত বাস্তবায়ন, অর্থনীতির প্রধান খাত রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত রাখা। এ অবস্থায় অর্থনীতির প্রধান খাত রপ্তানি ও রেমিট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান কমে গিয়ে আবার বেকার হওয়ার একটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ জন্য রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ থাকবে।

কর্মসৃজন ও গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং সামাজিক সুরক্ষা করের আওতায় সম্প্রসারণ ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও এবার জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, করোনা রোগীকে সেবা প্রদান, বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থগিত ঋণের আংশিক সুদ মওকুফ, এসএমই খাতের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, রপ্তানিকারকদের জন্য প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট ফাইন্যান্স, কৃষি ভর্তুকি ও উৎপাদন বাড়ানোর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি সব পক্ষের সঙ্গে আবার বসতে যাচ্ছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

অন্যদিকে করোনা-পরবর্তী বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি-বেসরকারি খাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে এই টাস্কফোর্স। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নি¤œ আয়ের পেশাজীবী, কৃষক এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে গঠন করা এ তহবিল থেকে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। ক্ষুদ্র ঋণদানকারী

প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয়ের উৎস কর্মকা-ে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান এ তহবিলের ঋণ সুবিধা পাবেন।এ ছাড়া হতদরিদ্র অথবা অনগ্রসর গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি এবং অসহায়, নিগৃহীত নারী সদস্য এ ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন। এ তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর।

দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করবে এই স্কিম থেকে পুনঃঅর্থায়নে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংক, যারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বার্ষিক মাত্র ১ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংকগুলো এই তহবিল দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদ গুনবেন।

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে মোকাবিলা করতে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথম দফায় স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তুতি ছিল না। দ্বিতীয় ঢেউয়ে চাপ বাড়বে। সেটি মোকাবিলায় আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড়দের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সহজ কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পেঁৗঁছাতে পারছি না। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের জন্য বাজেট থেকেএককালীন সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

 

advertisement
Evaly
advertisement