advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সোনাঝরা গৌরবের মাস শুরু

আমাদের সময় ডেস্ক
১ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

পতাকা উড়িয়ে দেখি সেখানেও মানচিত্র/সেখানেও রক্তে লেখা মৃতদের নাম/সেখানে দাঁড়িয়ে আমি প্রভাতের সূর্য দেখি/সেখানে দাঁড়িয়ে আমি খুঁজে পাই নক্ষত্র খচিত/আমাদের বিজয়ী আকাশ।

[বিজয়ী আকাশ, কামাল চৌধুরী]

শুরু হলো বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় মাস, ইতিহাসের নক্ষত্রখচিত মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসেই বাঙালি পেয়েছিল দীর্ঘ কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। পৃথিবীর বুকে এ মাসেই রচিত হয়েছিল এক অমর গাথা; উদ্ভাসিত হয়েছিল একটি মানচিত্র; সগর্বে বাতাসে উড়তে শুরু করেছিল সবুজ জমিনের বুকে লাল সূর্য নিয়ে একটি পতাকা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতি দৃঢ় শপথ নিয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২৫ মার্চের নির্মম নৃশংস হত্যাকা-ের

পর এ জাতি রুখে দাঁড়িয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। এ মাসের প্রতিটি দিনই ঘটনাবহুল; সোনাঝরা গৌরবের দিন।

স্বাধীনতার জন্য বাঙালি হৃদয় ছিল আজন্ম তৃষিত। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা, পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে নয় মাসের ত্যাগ-তিতিক্ষার পর পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করে অর্জিত এ বিজয় ছিল তাই আনন্দ, উল্লাস ও গৌরবের; ছিল প্রিয়জন হারানো শোকেরও। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং বিজয়ের সেই আনন্দকে বুকে ধারণ করে এতগুলো বছর পর একটু একটু করে অনেকটাই বদলে গেছে আমাদের প্রিয় স্বদেশভূমি।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ক্রমাগত পরাজয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। একাত্তরের ১ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা হামলা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেনাবাহিনী আরও ভয়াবহভাবে নিরীহ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পারে জিঞ্জিরায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একদিনেই হত্যা করা হয় ৮৭ জনকে। কিন্তু এসব হত্যাযজ্ঞসহ শাসকগোষ্ঠীর নানা ষড়যন্ত্রেও পিছপা হয়নি বাঙালি; মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে তারা মরণপণ লড়াই চালিয়ে যান।

একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ যুদ্ধ, অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসে পরম কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।

বিজয়ের মাস শুরুর প্রাক্কালে বাঙালির মনে পরম এক স্বস্তি এই কারণে যে, দীর্ঘকাল পর হলেও জাতির শাপমোচন হয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। কুখ্যাত কিছু যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকরও হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিজয়ের মাসে দেশবাসী বিজয় ও মুক্তির আনন্দে উল্লসিত হবে। ভালোবাসায় উজ্জীবিত ও শোকে মুহ্যমান হয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে। এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিজয়োৎসব উদযাপিত হবে। অবশ্য হৃদয়ে প্রোথিত যে ভালোবাসা, উৎসবের ছটা না থাকলেও সেগুলো কখনো অতীত হওয়ার নয়, অমোচনীয় নয়।

advertisement
Evaly
advertisement