advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনা বাড়তেই সরকারি আইসিইউ নিয়ে দুশ্চিন্তা

তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম
১ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২০ ২৩:১২
advertisement

মাত্র পাঁচ দিনেই চট্টগ্রামে শনাক্ত করোনা রোগী বেড়েছে এক হাজার। ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরু হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা শনাক্ত হয়। নতুন শনাক্ত ২৯১ জন; এটি গত ৮ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ শনাক্ত। মাঝখানে বেশ কিছুদিন মৃত্যুহীন থাকার পর এখন প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর আসছে। বাড়ছে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যাও। এতে সংকট দেখা দিয়েছে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউর সীমাহীন বিল থেকে বাঁচতে সংকটাপন্ন করোনা রোগীর স্বজনরা সরকারি আইসিইউর জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা মোট ৩০টি। যদিও এরই মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ১০টি আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। ফলে সেখানে কোনো রোগীও ভর্তি নেই। বাকি ২০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে রোগী আছে ১৫ জন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্লিনিকের চিত্র আলাদা। সেগুলোতে ১৩২টি আইসিইউ শয্যার বিপরীতে গতকাল ৪৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এগুলো অত্যধিক ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগীর স্বজনরা সরকারি আইসিইউ পেতে চান।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রামের চিকিৎসক নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, আমার এক আত্মীয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ছয়দিন ধরে চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে নানা চেষ্টা সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতালে একটি আইসিইউ বরাদ্দ পাইনি। চলতি মাসে এটি তৃতীয় ঘটনা, আমি প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি। তিনি আরও বলেন, একজন রোগী ছয়দিন ধরে বেসরকারি একটা

হাসপাতালে আছেন। যেখানে প্রথমদিনেই বিল এসেছে ৫০ হাজার টাকা। এর পর প্রতিদিন ৩০ হাজার করে বিল আসছে। এটা তো সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খালি থাকলেও সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চলতি নভেম্বরে করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত আইসিইউ শয্যায় হঠাৎ রোগী বেড়েছে। এখন কয়েকটা শয্যা খালি আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পর্যাপ্ত নয়। জেনারেল হাসপাতালে আরও আটটি আইসিইউ সিট অনেকটাই প্রস্তুত। আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। শুধু আটটি মনিটর আর লোকবল নিয়োগ দেওয়া গেলে দু-একদিনের মধ্যেই এ আটটি শয্যায় রোগী ভর্তি করা সম্ভব। তিনি বলেন, করোনায় অক্সিজেন আর হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সবচেয়ে বেশি দরকার। সেসব ক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে মোট করোনা শনাক্ত রোগী এখন ২৫ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে নগরের রোগী ১৮ হাজার ৯৩৮ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ৬ হাজার ২১৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১৯ জন, যাদের ২২৪ জন নগরের এবং ৯৫ জন উপজেলার। অন্যদিকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৯৭ জন।

advertisement
Evaly
advertisement