advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রাখাল নৃত্যে শুরু মণিপুরি রাসলীলা

দিনাজপুর ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
১ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২০ ২৩:১২
advertisement

কঠোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্যতম সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ‘রাসলীলা’। গতকাল সোমবার দুপুরে রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি রাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার মাধবপুর জোড়া ম-প প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের ১৭৮তম, আদমপুরের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স ও তেতইগাঁও সানাঠাকুর ম-প প্রাঙ্গণে মনিপুরি মী-তৈ সম্প্রদায়ের ৩৫তম রাসলীলা শুরু হয়। অন্যদিকে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক

শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাসোৎসব। উৎসবের উদ্বোধনী আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি।

কমলগঞ্জে তুমুল হইচই, আনন্দ-উৎসাহ, ঢাকঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল এবং শঙ্খ ধ্বনির মধ্য দিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে সোমবারের দিনটি বছরের অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে উপজেলাবাসীর জীবনে। বৈশি^ক মহামারী করোনার কারণে এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতপরিসরে করার কথা থাকলেও সোমবার সকাল থেকে রাসোৎসব দেখতে হাজারও মানুষের ঢল নামে। তবে এ বছর মেলা হচ্ছে না। মাধবপুরের জোড়া ম-প ও আদমপুর ম-পে দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় রাখাল নৃত্য। রাখাল নৃত্যের বিভিন্ন ধাপে রাধা-কৃষ্ণের শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকালের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। নিজস্ব পোশাকে সজ্জিত হয়ে মণিপুরি তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন। এর পর রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মণিপুরি নৃত্যের ধ্রুপদ ভঙিমায় রাধা-কৃষ্ণের রাসনৃত্য হওয়ার কথা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শৈশব এবং শ্রীমতি রাধিকার সঙ্গে প্রেমের কাহিনি নিয়ে রাসোৎসবের আয়োজন।

মাধবপুর মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়া ম-পে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাসোৎসবে সবার মহামিলন ঘটে।

মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস সিংহ জানান, এখানে সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এটি উৎসবে রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী এখানে এসেছেন।

এদিকে দিনাজপুরের কান্তজীউ মন্দিরে রাসোৎসবের আয়োজক কমিটি জানায়, যুগ যুগ ধরে এ উৎসব উপলক্ষে মাসব্যাপী রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। লাখ লাখ ভক্ত ও পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। কিন্তু এবার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে কোনো মেলা হচ্ছে না। তবে সংক্ষিপ্ত আকারে রাসোৎসব পালিত হচ্ছে।

রাজ দেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ সিংহ ও রাজ দেবোত্তর এস্টেটের নির্বাহী সদস্য হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রতন সিং, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র দেবনাথ।

advertisement
Evaly
advertisement