advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিদায়বেলায় আরও কিছু ট্রাম্প সমাচার

১ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:৪৯
advertisement

প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন

নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে অভিষেকের আগের সময়কালই প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন। অর্থাৎ নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়া জো বাইডেন ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকের মাধ্যমে শপথগ্রহণের আগের সময়টুকুই প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরেছেন ‘দিস ইজ নট এ ফেক নিউজ’ :

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজায়ের পর থেকে ওই দেশের নাগরিকরা টিপ্পনি কেটে বলতে শুরু করেছেন, ট্রাম্প হেরেছে। এটি একেবারেই সত্য। ‘দিস ইজ নট এ ফেক নিউজ’ (এটা কোনো মিথ্যা খবর নয়)।

অবশ্য ‘দিস ইজ নট এ ফেক নিউজ’- এই উক্তির পেছনে একটি গল্পও আছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে জিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘লাগামহীন’ বক্তব্যের কারণে অনেক গণমাধ্যমই তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি কোনো ধরনের রাখঢাকা ছাড়াই প্রকাশ্যে এসব গণমাধ্যমের সমালোচনা করতে থাকেন। তবে মিডিয়া মোগল হিসেবে পরিচিত রুপার্ট মারডকের নজর সব সময়ই ট্রাম্পের দিকেই ছিল। মারডকের মালিকানাধীন তিনটি প্রভাবশালী প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ট্রাম্পকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়ে গেছে। ঠিক এর বিপরীতে ছিল সিএনএনের অবস্থান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে হোয়াইট হাউসের মিডিয়া সেন্টারের চেনা দৃশ্য। কোনো নীতির সমালোচনা করে প্রশ্ন করলেই সেই সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপে যেতেন প্রেসিডেন্ট। প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলতে থাকতেন, ‘দিস ইজ নট এ ফেক নিউজ’। মোদ্দা কথা, নিজের পছন্দের গণমাধ্যম আর সাংবাদিক ছাড়া অন্য কারও প্রশ্নের তেমন কোনো উত্তরও দিতেন না ট্রাম্প। আর তখন থেকেই ভাইরাল হয়ে যায় ট্রাম্পের এই উক্তি- ‘দিস ইজ নট এ ফেক নিউজ’।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ফেক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের পর তার করা টুইট ও ভাষণের সত্যতা যাচাই করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর বলা ডোনান্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ কথাই ছিল ফেক (ভুল)। তা এক ধরনের মিথ্যাচার। আর এসব ‘ফেক’ কথার প্লট তিনি কয়েক মাস আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন। নির্বাচনের প্রচার শুরু থেকেই তিনি মেইল ভোটিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ওই দাবি অব্যাহত রেখেছেন। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই তিনি নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেছেন। তার সাবেক উপদেষ্টাও ট্রাম্পের এমন আচরণকে চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সিএনএন বলেছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প যে অসততা দেখালেন, ওই কৌশল এ বছরজুড়ে ভিত্তি স্থাপন করে রেখেছিলেন। বেশ কয়েকবার তিনি নির্বাচন ঘিরে মিথ্যা দাবি করেছেন। মাস কয়েক আগে থেকেই মেইল ইন ব্যালটকে জালিয়াতি বলে প্রচারণা শুরু করেছিলেন।

ট্রাম্প অভিযোগ তুলে বলেন, তাকে অপছন্দ করেন এমন ডেমোক্র্যাট গভর্নররা ভোট গণনার দায়িত্বে আছেন। তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনের পরদিন ভোট গণনার স্বাভাবিক অনুশীলন আইনবহির্ভূত ও অবৈধ। কিন্তু এসব কথা গত বুধবার বিকাল থেকেই ট্রাম্পের পুরো দল তার পক্ষে ভুয়া তথ্য ছড়াতে লেগে যায়। ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ম্যাকনানি, প্রচার ব্যবস্থাপক বিল স্টিফেনসহ অন্য মিত্ররা নির্বাচনে জয়ের ভুয়া দাবি করতে থাকেন। নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচারের এ তালিকায় আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম্যাট স্ক্যালপস, ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি গিলিয়ানির মতো লোকজনও ছিলেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অসততা ট্রাম্পের বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল। তা তার পুনর্র্নিবাচনের সময় বড় একটা ভূমিকা রেখেছিল। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিয়ে নিজের জয় দাবি করেন। এমনকি নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগও তোলেন। ব্যাটল গ্রাউন্ড কিছু রাজ্যের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হলেও নিজের জয়ের ঘোষণা দেন তিনি। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দেওয়া ভাষণে নিজের জয়ের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সত্যি বলছি, আমরা এই নির্বাচনে জিতেছি। তবে কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এর পর তিনি টুইটারে নানা ফেক (মিথ্যা) দাবি করেছেন। তিনি সারাদিন যা বলেছেন, এর অধিকাংশই ভুল ছিল বলে দাবি করেছে সিএনএন। টুইটারে ট্রাম্প যেসব টুইট করেছেন, এর মধ্যে ৬টিতে সতর্কতামূলক লেবেল জুড়ে দিয়েছিল টুইটার কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্পের আরেক টুইটে বলা হয়, আমরা বড় ব্যবধানে জিততে যাচ্ছি। তারা নির্বাচন চুরি করার চেষ্টা করছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আর ভোট দেওয়া যাবে না। ট্রাম্পের এ দাবিও পুরোপুরি মিথ্যা। কেউ কিছু চুরি করার চেষ্টা করেননি। ভোট শেষ হওয়ার পর ভোটগ্রহণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ট্রাম্প একটি প্রতারণামূলক টুইট করে পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনা নিজেদের বলে দাবি করেন। এ ছাড়া মিশিগানও নিজের বলে দাবি করার পাশাপাশি সেখানে গোপন ভোট জমা হওয়ার অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্প যে গোপনে ব্যাপক ব্যালট ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, তা ঠিক নয়।

ট্রাম্পের ‘ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম সারির কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ‘সবচেয়ে অসৎ ও ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ২০১৭ সালে ‘ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে ‘ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ওয়েবসাইটে তিনি ১১ বিজয়ীর একটি তালিকাও দেন। ওই ওয়েবসাইটের লিংক ট্রাম্প তার টুইটেও দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে আসা ট্রাম্প তার ভাষায় ‘ফেক’ সংবাদমাধ্যমগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই অনুযায়ী তিনি এ পুরস্কার বিজীয়দের নাম ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম পুরস্কার পেয়েছে অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’। আর এতে নিয়মিত কলাম লেখক ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী পল ক্রুগমানকেও শীর্ষে রেখেছেন তিনি। তালিকার ১০ম স্থানেও নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার নাম রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে এবিসি নিউজ। এ ছাড়া তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম স্থানে রয়েছে সিএনএনের নাম। অর্থাৎ ১১টির মধ্যে চারটি পুরস্কারই পেয়েছে এই সংবাদমাধ্যম। তালিকায় চতুর্থ স্থানে টাইম ম্যাগাজিন, পঞ্চম ওয়াশিংটন পোস্ট ও অষ্টম স্থানে নিউজউইকের নাম রয়েছে। ১১তম বিজয়ী হিসেবে কোনো নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে ‘রাশিয়া কলিউশন’। অর্থাৎ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বা জড়িত থাকার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোর কথা বলা হয়েছে। এই রুশ হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক তোলপাড় চলে। এ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাপক সমালোচনা হয়। এ জন্য ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি।

ট্রাম্প এখনো ‘নির্বাচনী প্রচারে’

নির্বাচন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিতেও গেছেন জো বাইডেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন এখনো নির্বাচনের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। বলছেন- জো বাইডেন যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন, তা হলে আগামী চার বছরেও করোনার টিকা পাবে না জনগণ।

আমেরিকার গণমাধ্যম বলছে, এ ধরনের বক্তব্য সাধারণত নির্বাচনের আগেই মানায়। নির্বাচনে পরাজয় না মেনে এ ধরনের বক্তব্য অসঙ্গত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, আপনারা আগামী চার বছরেও করোনার ভ্যাকসিন পাবেন না- যদি জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হন। আমেরিকার ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) অত তাড়াতাড়ি কোনোদিন অনুমোদন দেবে না। আমলাতন্ত্রের কারণে লাখ লাখ জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। আমেরিকার গণমাধ্যমগুলো বলছে, নির্বাচনে হারার পর থেকেই ট্রাম্প নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। সর্বশেষ বক্তব্যও যেন এরই প্রমাণ। আমেরিকার গণমামধ্যম সিএনএন বলছে, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প পরিবারের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। জামাতা কুশনার ও স্ত্রী মেলানিয়া পরাজয় মেনে নিতে বললেও ট্রাম্পের দুই ছেলে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখার পক্ষে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি, বরং বিষয়টি নিয়ে তিনি ও তার প্রচার শিবির আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা মিট রমনি ও দলটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশও বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছেন। অনেক রিপাবলিকান নেতা আবার ট্রাম্পের ভয়ে মুখ খুলছেন না।

advertisement
Evaly
advertisement