advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নতুন জীবন পেল পৃথিবীর নিঃসঙ্গ হাতিটি

অনলাইন ডেস্ক
১ ডিসেম্বর ২০২০ ১২:৪৮ | আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩:২৮
ক্যাম্বোডিয়া নেওয়ার জন্য সহায়তা করেন পশু চিকিৎসক আমির খলিল। ছবি: ইপিএ
advertisement

দীর্ঘ ৩৫ বছর পাকিস্তান চিড়িয়াখানায় বন্দী ছিল নিঃসঙ্গ হাতি কাভান। আদালতের নির্দেশে সেটিকে দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ক্যাম্বোডিয়ায়। সেখানে একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ এ সময়ে নিম্মমানের জরাজীর্ণ একটি চিড়িয়াখানায় বন্দী ছিলো কাভান। ২০১২ সালে সঙ্গীর মৃত্যুর পর থেকে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছে হাতিটি। তাকে কম্বোডিয়ায় স্বাগতম জানিয়েছেন পপ তারকা শের। মূলত তিনি হাতিটির মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ক্যাম্বোডিয়ায় হাতিটির ঠাঁই হয়েছে একটি সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে যেখানে খোলা আকাশের নিচে। সেখানে আরও হাতির দল থাকে। ’ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে পপতারকা শের বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত যে এটি এখন কম্বোডিয়ায়।

প্রাণী কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা এফপিআই এর একজন পশু চিকিৎসক ড. আমির খলিল জানান, পাকিস্তান থেকে যাওয়ার সময় কাভানের আচরণ ছিলো একজন নিয়মিত ভ্রমণকারীর মতো। তাকে খুব একটা বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল না। সে খেয়েছে এবং বিমান ভ্রমণের সময় কিছুটা ঘুমিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কম্বোডিয়ার উপ-পরিবেশ মন্ত্রী নেথ ফেকাত্রা বলেছেন, কাভানকে স্বাগত জানাতে পেরে তার দেশ অত্যন্ত আনন্দিত। খুব বেশি দিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গতম হাতি থাকতে হবে না। আমরা আশা করছি, স্থানীয় হাতির সঙ্গে তার প্রজননের ব্যবস্থা করতে পারব। হাতিটির জাত সংরক্ষণের চেষ্টা করা হবে।’

অভয়াশ্রমের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কাভানকে কলা ও তরমুজ দেয় এবং তারা প্রার্থনা ও পবিত্র পানি ছিটিয়ে তাকে আশীর্বাদ করে। কয়েক বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মুক্ত হয় কাভান। আর এ লড়াইটি করেছেন এফপিআই এর অধিকারকর্মীরা এবং পপতারকা শের, যিনি বন্যপ্রাণী সুরক্ষার জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফ্রি দা ওয়াইল্ড এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

ইসলামাবাদের মারঘাজার চিড়িয়াখানায় দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের বিনোদন দিয়েছে কাভান। ২০১২ সালে সঙ্গিনীর মৃত্যুর পর মূলত একাকী হয়ে পড়ে হাতিটি। এরপর নিঃসঙ্গ থাকা ও চিড়িয়াখানার পরিবেশের কারণে এক ধরণের মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় সে। তার পায়ে সবসময় শেকল বাঁধা থাকতো এবং তার ওজন হয়ে যায় বেশি।

কাভানের মুক্তির জন্য একটি আইনজীবীর দল নিয়োগ করেন পপতারকা শের। গত মে মাসে আদালত যখন তার মুক্তির আদেশ দেয় তিনি তখন একে তার জীবনের সেরা মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছিলেন। পরে চিড়িয়াখানাটিই সংস্কারের জন্য বন্ধ করার  আদেশ দেওয়া হয়। এফপিআই ও ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ মিলে ওই চিড়িয়াখানা থেকে অন্য প্রাণীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

advertisement
Evaly
advertisement