advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনায় প্রাণহানি ছাড়াল ১৫ লাখ

জাহাঙ্গীর সুর
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:০০
advertisement

পনেরো লাখ প্রাণ কেড়ে নিল করোনা। সংক্রমণের বছর না ঘুরতেই। প্রথমে যাকে ‘নিউমোনিয়া- সদৃশ নতুন রোগ’ বলে উল্লেখ করে বড়জোর কাগজের ভেতরের পৃষ্ঠায় তার সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছিল। সেই প্রাণঘাতী ভাইরাস এখন সব সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম। উপরন্তু, এখন অবধি এই মহামারী মোকাবিলায় কোনো টিকার বাস্তবিক কার্যকারিতা নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সার্স-কভ-২ ভাইরাসটির তথ্য হালনাগাদকারী সাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত রাত আটটায় এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৫ লাখ ১৪ হাজারের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে বাংলাদেশে মারা গেছে পৌনে সাত হাজার।

করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবজ্ঞা ও অজ্ঞতার খেসারত হিসেবে মার্কিনিরা সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। সে দেশে মারা গেছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮২৯ জন।

করোনায় মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো, যাকে ‘ব্রাজিলের ট্রাম্প’ বলা হয়ে থাকে, করোনা মোকাবিলায় প্রথম থেকেই অবহেলা দেখিয়ে

এসেছেন। তিনিও ট্রাম্পের মতোই মনে করেন, করোনা যতটা বাস্তব, গণমাধ্যমগুলো তার চেয়ে বাড়িয়ে বলছে। অবশ্য দুই নেতাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারা সেরেও উঠেছেন।

করোনায় মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত। সে দেশে লকডাউনের মতো কড়াকড়ি আরোপ করার পরও মারা গেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২২৭ জন। তবে করোনা সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদির দেশ।

এই তিন দেশের বাইরে করোনায় এক লাখের বেশি মৃত্যু হয়েছে আরেকটি দেশে। মেক্সিকোয় মারা গেছে এক লাখ আট হাজার ১৭৩ জন। করোনায় মৃত্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম।

বিশ্বে করোনায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষ। এদের মধ্যে অবশ্য সাড়ে চার কোটিই আরোগ্য লাভ করেছে।

প্রাণহানির মতোই সংক্রমণেও শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি জন। ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ লাখ ৭১ হাজার ৭৮০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে গেছে ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৮৯ জন। ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৬ জন।

এরপর রাশিয়া ও ফ্রান্সে দুই লাখের বেশি করে মানুষ করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এক লাখের বেশি করোনা রোগী আছে আরও নয় দেশের- যথাক্রমে স্পেন, যুক্তরাজ্য, ইতালি, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ইরান।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর খবর পাওয়া যায়, যদিও এখনো করোনার উৎস নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হননি। প্রথমেই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখে দেয় চীন। কিন্তু বহুদেশ এই ভাইরাসকে সেভাবে আমলে নেয়নি বলে দ্রুত চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে।

চীনের সরকারি দাবি অনুযায়ী, করোনায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮৬ হাজার ৫৮৪ জন। এদের মধ্যে ৮১ হাজার ৬৭৯ জন সুস্থ হয়ে গেছে। মোট মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। গতকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে মাত্র ২৭১ জন এই রোগে ভুগছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, চীন করোনার প্রকৃত সংখ্যাচিত্র গোপন করছে। বেইজিং যে অভিযোগ প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

advertisement
Evaly
advertisement