advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কোয়ারেন্টিন সেন্টারে বসছে পরীক্ষার ল্যাব
বিমানবন্দরে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ

গোলাম সাত্তার রনি ও আরিফুজ্জামান মামুন
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:০৮
advertisement

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিদেশ থেকে আসা দেশি-বিদেশি সবার জন্য করোনার নেগেটিভ সনদ থাকা বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ভেতরে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু বিদেশ থেকে আগতদের মাধ্যমে ভাইরাসটি যেন আগের মতো ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বিষয়টি নিয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে করোনা পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলয়ায় গঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, আজ থেকেই বিদেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আসার আগে সব যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর ল্যাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে। শুধু নেগেটিভ সনদ থাকলেই তারা বাংলাদেশে আসার অনুমতি পাবেন। বিমানবন্দরে যাত্রীদের সেই মেডিক্যাল সনদ দেখাতে হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সাধারণ বিদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ থাকলেও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এই ভিসা পাবেন। তবে বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আসতে হলে করোনা নেগেটিভ সনদ দেখাতে হবে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যদি তাদের উপসর্গ না দেখা যায় এবং তারা যদি বাংলাদেশে ১৪ দিনের কম সময় অবস্থান করেন, তা হলে তাদের দেশ ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হবে; কিন্তু ভাইরাসের উপসর্গ থাকলে তাদেরও পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার ও হাসপাতালে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, রাজধানীর হজ ক্যাম্পে ও দিয়াবাড়ীতে যে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার আছে, সেটি বর্তমানে পরিপূর্ণ। সেখানে আর জায়গা হচ্ছে না। এ জন্য দিয়াবাড়ী/হজ ক্যাম্পের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া বিদেশ ফেরতদের একদিন পরই কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলয়ায় গঠিত কমিটির বৈঠকে। একইসঙ্গে এই দুই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের কোভিড-১৯ মুক্ত সনদ/স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জনবল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ/স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়োগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।

এদিকে বেবিচক জানিয়েছে, এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা সব যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষাসহ মেডিক্যাল স্ক্রিনিং হবে। করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও কারও শরীরে যদি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা যায়, তবে তাকে সরাসরি নির্ধারিত হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেওয়া হবে। পরে পাঠানো হবে আইসোলেশন সেন্টারে। আর যাদের মধ্যে উপসর্গ থাকবে না, তাদের বাড়ি ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিএমইটি কার্ডধারী বাংলাদেশি শ্রমিকরা যে দেশে আছেন, সেখানকার পিসিআর ল্যাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা সহজলভ্য না হলে তারা অ্যান্টিজেন বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার সনদ নিয়ে দেশে আসতে পারবেন। এ ছাড়া বিমানবন্দরে কর্মরতদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ যাত্রী, ক্রু, উড়োজাহাজ জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে করতে হবে। বিশেষ করে বাহরাইন, চীন, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে চলাচল করা ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গন্তব্যে এখন সরাসরি ফ্লাইট নেই। সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, দুবাই, আবুধাবি, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যে ট্রানজিট হয়ে যাত্রীরা এসব গন্তব্যে যাওয়া-আসা করেন। ফলে এ নির্দেশনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গন্তব্যে চলাচল করা ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও করোনা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. খলিলুর রহমান বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় আমরা বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ জন্য বিদেশ ফেরত সবার করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে দেশে প্রবেশের অপরাধে একজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement