advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মানিকগঞ্জে একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত

আমাদের সময় ডেস্ক
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:০০
advertisement

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জে বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলায় বিকল যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ট্রাকের ধাক্কায় ছয়জন নিহত হয়। এ ছাড়া বান্দরবানের লামায় এক কিশোর, গাজীপুরে এক মোটরসাইকেল আরোহী, ভোলায় এক ব্যক্তি, বগুড়ায় এক মোটরসাইকেল আরোহী ও এক শিশু, মাগুরা-ফরিদপুর সড়কে এক গৃহবধূ, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও শ্রীপুরে তিন ব্যক্তি এবং নরসিংদীর শিবপুরে ও নাটোর জেলায় দুই বৃদ্ধ মারা যান। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

মানিকগঞ্জে বাস ও সিএনজির (থ্রি-হুইলার) মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে জেলার দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মূলকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চাষা ভাদ্রা গ্রামের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার (৫২), মা খুশি বাদ্যকার (৭০), ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (৩০), গোবিন্দ বাদ্যকারের স্ত্রী ববিতা বাদ্যকার (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকার (৩),

ফুফাতো ভাই রামপ্রসাদ বাদ্যকার (৩০) এবং সিএনজিচালক দৌলতপুর উপজেলার সমেদপুর গ্রামের সদর উদ্দিনের সন্তান উজ্জ্বল হোসেন (৪০)।

টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চাষা ভাদ্রা গ্রামের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার তার নাতনিকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৌলতপুরের চকমিরপুর ইউনিয়নের মূলকান্দি এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভিলেজ লাইন (ঢাকা মেট্রো জ-১১-১৪৪৭) বাসটির টাঙ্গাইল থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মারা যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের অন্যজন সিএনজিচালক। বাসটির ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক রয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মির্জাপুর উপজেলায় বিকল হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাখা যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় ৬ জন নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উপজেলার কুর্নী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রংপুর থেকে ছেড়ে আসা সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস কুর্নী এলাকায় বিকল হয়ে পড়ে। মেরামতের জন্য বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হয়। ঢাকাগামী সবজি ভর্তি একটি ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দুজন মারা যায়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন হলেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়আমবাড়ি গ্রামের ইসহাক ম-লের ছেলে হান্নান ম-ল (৫০), ধল্যাকান্দি গ্রামের জয়নাল হোসেনের ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৩) ও কবেজ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩১), হরিরামশাহাপুর গ্রামের নুলু খানের মেয়ে নুরুন্নাহার (১৪) ও সোবহান খানের ছেলে শওকত হোসেন (১২)।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মোটরসাইকেল ও তিন চাকার ট্রলি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে মো. জালাল উদ্দিন (১৮) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে উপজেলার লামা-সুয়ালক সড়কের সাফমারা ঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক আবদুর শুক্কুরও আহত হন। নিহত মো. জালাল উদ্দিন পৌরসভা এলাকার টিটিএন্ডডিসি গ্রামের বাসিন্দা ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নয়নপুর এলাকায় কাভার্ডভ্যান চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল পৌনে আটটার দিকে শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিরাজ মিয়া ময়মনসিংহের ভালুকা থানার জামিরদিয়া গ্রামের মৃত ময়জুদ্দীনের ছেলে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি এআরএম আল মামুন জানান, শ্রীপুরের সিংগারদীঘি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা থানা এলাকার জামিরদিয়া গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন সিরাজ। মোটরসাইকেলটি শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকার আরএকে সিরামিক্স কারখানার সামনে পৌঁছলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়মনসিংহগামী কাভার্ডভ্যান পেছন থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি কাভার্ডভ্যানের নিচে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সিরাজ মিয়া নিহত হন। কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

এ ছাড়া আরও দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাঘেরপাড়া এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের পাগলা থানার লংগাই এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের, কালীগঞ্জ উপজেলার মুনসেফপুর এলাকার তরব আলী খন্দকারের ছেলে নুরুল ইসলাম ও একই এলাকার মাইনুল ইসলাম।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি এআরএম আল মামুন জানান, সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল মোটরসাইকেল আরোহী জুবায়ের। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি বাজার এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জুবায়ের মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে।

এদিকে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার বাঘেরপাড়া এলাকার টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ি ব্যাটারিচালিত এক রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই রিকশার চালক নুরুল ইসলাম ও রিকশা যাত্রী মাইনুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভোলায় ট্রলি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন মিরন (৪৫) নামে এক আরোহী নিহত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের বাংলাবাজার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিরন ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ভোলার বাংলাবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, দুপুরের দিকে তিন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেল ভোলার দিকে আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মালবাহী ট্রলির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী মিরন নিহত হয়।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জামতলা এলাকায় পিকআপভ্যান-শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে ইউসুফ আলী (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ একই উপজেলার পোড়ানদিয়া এলাকার মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত নসিমনচালক বলে জানা গেছে।

নাটোরে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মো. আলাল ফকির (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার হয়বতপুর এলাকায় নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলাল ফকিরের বাড়ি হয়বতপুর গ্রামে।

হাইওয়ে পুলিশের ঝলমলিয়া ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. রেজওয়ানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফজরের নামাজ শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন আলাল ফকির। পথে হয়বতপুর এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়ার কাহালুতে ট্রাকের ধাক্কায় রিপন আহমেদ (৩০) ও নন্দীগ্রামে অটোরিকশার চাপায় জাহিদ হাসান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ও বিকালে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নন্দীগ্রামের কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আজিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া গ্রামে ফারুক আহম্মেদের ছেলে জাহিদ হাসান অন্য শিশুদের সঙ্গে বাড়ির পার্শ্বে গ্রামের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল। এ সময় ব্যাটারিচালিত একটি ধান বোঝাই অটোভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ভ্যান ফেলে রেখে চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভ্যানটি আটক করেছে।

মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় গতকাল শুক্রবার বিকালে সবজি বোঝাই ট্রাক উল্টে স্বর্ণলতা (২৭) নামে এক পথচারী গৃহবধূ নিহত হয়েছে। সে শালিখা উপজেলার থৈ পাড়া গ্রামের মিলটন বিশ্বাসের স্ত্রী। এ সময় আরও ৩ জন আহত হয়।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, বেলা ৩টার দিকে মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের রামনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় ঢাকাগামী সবজি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এ সময় স্বর্ণলতা নামে এক গৃহবধূসহ ৪ পথচারী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। আহতদের মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধূ স্বর্ণলতাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া, গাজীপুর প্রতিনিধি, নাটোর প্রতিনিধি, মাগুরা প্রতিনিধি, নরসিংদী প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি, ভোলা (উত্তর) প্রতিনিধি

advertisement
Evaly
advertisement