advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পুলিশি বাধায় ভাস্কর্যবিরোধী বিক্ষোভ প-

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:২৩
advertisement

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছেন ভাস্কর্যবিরোধী মুসল্লিরা। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর পল্টন, বায়তুল মোকাররম ও গুলিস্তান এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তা বাড়ানো হয় শাহবাগ এলাকাতেও। সেখানেও দুপুর ১২টা থেকে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। কাউকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি এমনকি মোবাইল ফোনও চেক করেন পুলিশ সদস্যরা।

সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি তোলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক। গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীও বলেন, ‘যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।’ তাদের বক্তব্য, ভাস্কর্যের নামে দেশে মূর্তি বানানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার পর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রতিবাদে আগেই মাঠে নামার ঘোষণা দেয় ইসলামপন্থি বেশ কয়েকটি দল। ইসলামপন্থি দলগুলোর জোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান জানানোর পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ

ঢাকা শহরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সভা-সমাবেশ করতে গেলে অনুমতি নিতে হবে জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে।

ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন সভা-সমাবেশ, গণজমায়েতের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচি পালন করতে রাস্তায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় যান ও জন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল, সভা-সমাবেশসহ কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিএমপি কমিশনারের এই কঠোর হুশিয়ারের পরও গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের মোনাজাতের পর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ভাস্কর্যবিরোধী কয়েকশ মুসল্লি। মসজিদের ভেতর অবস্থানকারী মুসল্লিরা ভাস্কর্যবিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভকারীরা প্রথমে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পুলিশ চলে যেতে বললে সিঁড়ি থেকে নেমে যান বিক্ষোভকারীরা। পরে তাদের বের হওয়ার অনুমতি দিলে বায়তুল মোকাররমসংলগ্ন এলাকায় তারা মিছিল করেন। বেলা ২টার দিকে উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে বিজয়নগরের দিকে আসেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়ে ভাস্কর্যবিরোধী স্লোগান দেওয়া শুরু করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কয়েকজন আহত হন। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা কয়েকজনকে তল্লাশি করে তাদের মোবাইল ফোন চেক করে দেখেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া খিলগাঁও এলাকার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. মান্নাফী বলেন, সারাদেশে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে তাদের এই কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ করছেন তারা। তিনি বলেন, প্রাণ থাকতে দেশের কোথাও আর একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক মিঠু জানান, অনুমতি ছাড়া সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার পরও জুমার নামাজের পর কিছু মুসল্লি ব্যানার ছাড়াই বিক্ষোভের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তাদের সরে যেতে বললে প্রথমে পুলিশকে সহযোগিতা করেন। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

advertisement
Evaly
advertisement