advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সমিতির ঘোষণা উপেক্ষা করে চাল সরবরাহের চুক্তি করছেন মিলাররা

রতন সরকার, রংপুর
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ২৩:২৩
advertisement

সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে। কেজিপ্রতি ৭ টাকা না বাড়ানো হলে সরকারি গুদামে চাল না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চালকল মালিক সমিতি। এর ফলেই সংগ্রহ অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে সমিতির ওই ঘোষণায় কান দেননি রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের অনেক মিলার। এরই মধ্যে চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৩৮৯ মিলার।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামনে রেখে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে প্রতিকেজি চালে ৭ টাকা বাড়ানোর আলটিমেটাম দিয়ে চাল সরবরাহের চুক্তি না করতে চালকল মালিক সমিতির ঘোষণায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিল চলতি আমন সংগ্রহ অভিযান। কৃষকদের পক্ষ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চাল

আমদানি এবং চুক্তি না করা মিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন। এই পরিস্থিতিতে ২৬ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের ৩৮৯ মিলার সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। সমিতির নেতারা বলছেন, বাজারে ধানের দাম কমলে তারাও চুক্তিবদ্ধ হবেন।

চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা আলম হোসেন বাবু ও জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, সরকার নির্ধারিত ৩৭ টাকা রেটে চাল সরবরাহ করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। এ কারণে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে চাল সরবরাহ না করার ঘোষণা দিয়েছি। কেউ যদি আগের রেটে চাল দিতে চান, তবে তাতে আমরা বাধা দেব না।

নেতারা বলেন, বাজারে ধানের দাম যদি এখন কমে আসে তা হলে অন্য মিলাররাও সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করবেন; কিন্তু সে ক্ষেত্রে সংগ্রহ অভিযানের চুক্তির জন্য ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়াতে হবে।

মাহিগঞ্জের চাল ব্যবসায়ী ও মিলার নাসির আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদসহ কয়েকজন বলেন, গত বছর আমরা লস করে চাল সরবরাহ করে বড় অঙ্কের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার সরকার যে রেট দিয়েছে, তাতে প্রতিকেজিতে অন্তত ৭ টাকা লোকসান হবে। এই ক্ষতি মেনে নিলে আমাদের পথে বসতে হবে।

তবে কৃষক নেতারা বলছেন, সরকারের খাদ্য সংগ্রহ অভিযানকে ব্যবসায়ীদের প্রভাবমুক্ত করা না গেলে কৃষকরা এর সুফল পাবেন না। জাতীয় কৃষক সমিতির রংপুর জেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, প্রয়োজনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে হাসকিং মিলের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে। না হলে সিন্ডিকেট করে চালের মজুদ বাড়িয়ে ফায়দা তুলবেন ব্যবসায়ীরা। তখন সরকারেরও কিছু করার থাকবে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন আশা প্রকাশ করে বলেন, বাকি মিলাররাও চুক্তিবদ্ধ হবেন। ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী গত ২৬ নভেম্বর ছিল চাল সরবরাহের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিলাররা চুক্তি না করায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ালে উত্তরাঞ্চলের মিলারদের একটি অংশ সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের চুক্তি করে।

আমন মৌসুমে ৩৭ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও ২৬ টাকা কেজি দরে ২ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকারের খাদ্য বিভাগ। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা থেকে সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৩ চাল।

বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার ৩৮৯ ডিলার ১৪ হাজার ৪৬২ টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই অঞ্চলে অনুমোদিত ২৭৯টি অটো রাইস মিল ও ৭ হাজার ৪১৯টি হাসকিং মিল রয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement